নোট অব ডিসেন্টের কারণেই গণভোট হয়েছে : সারোয়ার তুষার
সারোয়ার তুষারের মতে, গণভোট কোনো একক দলের সিদ্ধান্ত নয়, বরং রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটানোর একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়া। জনগণের সুস্পষ্ট রায়ের পর এখন ভিন্নমত বা রাজনৈতিক বিতর্কের আর কোনো অবকাশ নেই বলেই তিনি মনে করেন।


জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক বিষয়গুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্যের অভাব এবং ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমতের উপস্থিতির কারণেই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করেন।
সাক্ষাৎকারে উঠে আসা তাঁর প্রধান বক্তব্যগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
• জনমতের প্রাধান্য: সারোয়ার তুষার জানান, যেসব মৌলিক ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হতে পারেনি, সেগুলোর বিষয়ে সরাসরি জনগণের রায় জানতেই এই গণভোটের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। এটি একটি অধিকতর গণতান্ত্রিক ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়া।
• ভবিষ্যৎ জটিলতা নিরসন: তিনি উল্লেখ করেন যে, রাজনৈতিক দলগুলো চাইলে ভিন্নমত বজায় রেখেই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে ভবিষ্যৎ সরকারকে ইশতেহার অনুযায়ী দেশ পরিচালনার সুযোগ দিতে পারত। তবে দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা এড়াতে জনগণের সরাসরি সিদ্ধান্ত গ্রহণকেই এনসিপি অগ্রাধিকার দিয়েছে।
• ঐকমত্যের প্রক্রিয়া: বিভিন্ন ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিদ্যমান মতপার্থক্য নিরসনে একপর্যায়ে সবাই একমত হয় যে, জনমতই হবে চূড়ান্ত সমাধান। সেই সম্মিলিত সিদ্ধান্তের আলোকেই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।
• গণভোটের ফলাফল ও কার্যকারিতা: তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “যেহেতু জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে নির্দিষ্ট বিষয়ে তাদের রায় প্রদান করেছে, তাই এখন আর কোনো দলীয় ইশতেহার বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ প্রাধান্য পাওয়ার সুযোগ নেই। জনগণের ম্যান্ডেটই এখন সর্বোচ্চ আইন।”
• রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও বিএনপি প্রসঙ্গে: বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “বিশ্বব্যাপী প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী ‘নোট অব ডিসেন্ট’-এর অর্থ হলো দ্বিমত থাকা সত্ত্বেও বৃহত্তর স্বার্থে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াকে সচল রাখা। বিএনপির মতো অভিজ্ঞ দলের কাছে এই বিষয়টি অজানা থাকা অস্বাভাবিক।”



