রাজনীতি

শুধু পড়াশোনার চাপ নয়, শিশুদের আগ্রহের ক্ষেত্রগুলোতে উৎসাহ ও সহায়তা দেওয়া জরুরি।

ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, শুধু পড়াশোনার চাপ নয়—শিশুদের খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করাও তাদের সুস্থ বিকাশের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় জিয়া শিশু-কিশোর মেলা গেন্ডারিয়া থানা আয়োজিত সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)-এর ৯০তম জন্মবার্ষিকী ও মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, শিশুকাল থেকেই গান, নাচ, আবৃত্তি, আর্ট কিংবা যেকোনো খেলাধুলার চর্চা শিশুদের প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং ভবিষ্যৎ জীবন গঠনে সহায়ক হয়। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আমাদের সময় স্কুলে গান, নাটক ও আর্টের ক্লাস ছিল। আমি নিজেও ক্রিকেট, টেবিল টেনিস খেলেছি এবং পরে মার্শাল আর্ট—বিশেষ করে তাইকোয়ান্দোতে পারদর্শী হই। সবকিছুতে সেরা হওয়া যায় না, তবে চেষ্টা করাটা জরুরি।”

শিশুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি অন্তত একটি হবি বা সহশিক্ষা কার্যক্রম অবশ্যই বেছে নিতে হবে। খেলাধুলা হোক বা সাংস্কৃতিক চর্চা—যেটাতেই আগ্রহ থাকুক না কেন, তা নিয়মিতভাবে চর্চা করা প্রয়োজন।

অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিশুদের শুধু পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের আগ্রহের বিষয়গুলোতে উৎসাহ দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। “আমার মা আমাকে পড়াশোনায় উৎসাহ দিয়েছেন, আর বাবা খেলাধুলা ও তাইকোয়ান্দো শেখার সুযোগ করে দিয়েছেন—এই সমন্বয়টাই প্রয়োজন,” বলেন তিনি।

খেলাধুলার পরিবেশ প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, ঢাকার অনেক এলাকায় শিশুদের জন্য উপযোগী খেলার মাঠ নেই, আর যেখানে আছে সেগুলোর পরিবেশও অনেক ক্ষেত্রে নিরাপদ নয়। ভবিষ্যতে তাদের দল সরকার গঠন করতে পারলে প্রতিটি ওয়ার্ডে শিশুদের জন্য অন্তত একটি করে নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও আলোকসজ্জাসহ খেলার মাঠ গড়ে তোলা হবে।

তিনি আরও জানান, বিদ্যমান মাঠগুলোকে শিশুদের জন্য আরও নিরাপদ ও ব্যবহার উপযোগী করা হবে, যাতে স্কুলের পর যেকোনো সময় শিশুরা নির্বিঘ্নে খেলাধুলা করতে পারে এবং অভিভাবকেরা নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জিয়া শিশু কিশোর মেলার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম শিকদার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদুর রহমান মিন্টু, মকবুল ইসলাম খান টিপু, সদস্য মো. আক্তার হোসেন, গেন্ডারিয়া থানা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল কাদির, প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক (সদস্য সচিবের দায়িত্বে) ঢালী মামুনুর রশীদ অপু, যুগ্ম আহ্বায়ক কে এস হোসেন টমাস, মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন খান খোকন, ওমর ফারুক বাবু, আহসান ফরিদ লরেন্সসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button