সারাদেশ

১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে টিপুর অবদান অনস্বীকার্য’—আবু সালেহ তাহের

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে সেচ্ছাসেবকদলের এই নেতা লিখেন

যুবদলের সদ্য ঘোষিত কেন্দ্রীয় কমিটিতে এমন অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন যাদের গত ১৭ বছরের অবদান একত্র করলেও আমাদের আব্দুস সালাম টিপু’র অবদানের শতভাগের ১০% ও হবে কী না তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ রয়েসে, কিন্তু টিপুরা পদ পায় না!

গত ১৭ বছর সিলেটের আন্দোলন সংগ্রামের মাঠে টিপু ছিল না এমন উল্লেখযোগ্য একদুটো প্রোগ্রাম কেউ দেখাক ত আমাকে!

প্রিয় নেতা এম ইলিয়াস আলী ভাই গুম পরবর্তী উত্তাল সিলেটে তীব্র আন্দোলন, ২০১৪ সালের প্রহসনের একতরফা নির্বাচন বাতিল ও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবীতে নজিরবিহীন লাগাতার অসহযোগ আন্দোলন বলেন,

আর ২০১৮ সালে ফ্যাসিস্ট হাসিনার প্রতিহিংসা বাস্তবায়নের ষড়যন্ত্রমুলক মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন অভিযোগে ফরমায়েসী রায়ে ক্যাঙ্গারু কোর্টে আমাদের আদর্শিক মা জননী দেশনেত্রীকে দেয়া সাজার প্রতিবাদে মিছিল বাহির করার প্রাক্কালে সশস্ত্র লীগ-পুলিশের যৌথ হামলা খালি হাতে ইটপাটকেল দিয়ে প্রতিরোধ করার সেই উত্তাল দিনের কথা বলেন!
কিংবা ২০১৮ এর নৈশভোট ডাকাতি প্রতিরোধে ভুমিকা রাখা থেকে নিয়ে দেশনেত্রীর মুক্তির দাবিতে লাগাতার আন্দোলন সংগ্রামের দিনগুলোর কথা বলেন!
২৮ অক্টোবর পরবর্তী একদফা দাবি আদায়ের নিয়মিত আন্দোলন সংগ্রাম, জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান, সংক্টকালীন যেই আন্দোলন সংগ্রামের কথাই বলেন না কেন! কোথায় কখন কোন আন্দোলন সংগ্রামের অগ্রভাগে টিপু ছিল না ?
পুলিশের গুলিতে এক চোখ ত চিরদিনের জন্য হারাতেই বসেছিল, সে ত রাব্বুল আলামীনের অপার মেহেরবানি যে দীর্ঘদিনের ব্যয়বহুল উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে তা রক্ষা পেয়েছে…
স্বৈরাচার মুক্ত বাংলাদেশে সদ্য যে ঐতিহাসিক জাতীয় নির্বাচন হয়ে গেল, সেখানেও ত অন্য অনেক বড় বড় দায়িত্বশীল পদবীধারী নেতাদের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং ক্লান্তিহীন পরিশ্রম ছিল টিপুর..

জেলা-মহানগর বিএনপি কোনো প্রোগ্রাম করবে! টিপুর দ্বারস্থ হন নাই কে ? আগের জেলা/মহানগর কমিটির সভাপতি/সেক্রেটারি প্রোগ্রামের আগের রাতে রুটিন করে ফোন দিতেন, আমি নিজে যার স্বাক্ষী হয়েছি একাধিকবার… এর ব্যতিক্রম হয়নি এই কিছুদিন আগেও..

বর্তমান জেলা/মহানগর ছাত্রদলের কমিটির দায়ীত্বশীল একটি পদে থাকার কথা ছিল টিপুর, সেখানেও বঞ্চিত হয়েসে সে তবুও কমিটি রান করানোর পিছনে সেই টিপুই ছিল অগ্রণী ভূমিকায়, তার অবদানের পুরষ্কার হিসেবে শ্রাবণ-জুয়েল নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় কমিটির সিলেট বিভাগীয় গুরুত্বপূর্ণ পদটি প্রায় নিশ্চিত ছিল তার, কিন্তু সেটাও পায়নি সে, বঞ্চিত হয়েছিল, তবুও বিন্দুমাত্র দমে না গিয়ে পূর্ণউদ্যোমে রাজপথে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা চলমান রেখে গেসে…

পরবর্তী সময়ে প্রায় সবাই নিশ্চিত ছিল জেলা কিংবা মহানগর যুবদল কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে টিপু কে মূল্যায়ন করা হচ্ছে, কিন্তু কমিটি ঘোষণার পর দেখা গেল যথারীতি টিপুর নামই নেই, আবারো বঞ্চিত…

অবস্থা এমন দাড়িয়েছিল যে ‘ ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত’ হওয়াকে এককথায় প্রকাশ করতে গেলে বলতে হতো ‘আব্দুস সালাম টিপু’, এত বঞ্চিত হওয়ার পরেও আমি কখনোই আমার অত্যন্ত স্নেহের প্রিয় এই ভাইটিকে দেখি নাই দল,সংগঠন, শীর্ষ নেতৃত্ব নিয়ে কোনো ধরনের নেগেটিভ কিছু বলতে, দেখি নাই কোনো ধরনের বিরূপ মন্তব্য করতে, কিংবা কখনো দেখি নাই দলের জন্য কাজ করার ক্ষেত্রে সামান্যতম গাফলতি বা অবহেলা করতে…

আমার কাছে অনেক ভাইব্রাদার এসে বিভিন্ন সময় নিজেদের প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি নিয়ে মান-অভিমানের কথা যখন শুনায় তখন আমি তাদেরকে উল্টো টিপুর উদাহরণ দেখিয়ে প্রশ্ন করি তোমরা কি তার থেকেও বেশি বঞ্চিত ?

আফসোস লাগে, যারা কাজ করে যারা সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মত যোগ্যতা-সামর্থ্য রাখার প্রমাণ দিয়ে এসেছে, তাদেরকে বঞ্চিত হতে দেখলে সত্যি ভীষণ খ্রাপ লাগে আফসোস লাগে…

সুত্র: আবু সালেহ মো: তাহের নামক ফেইসবুক আউডি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button