সারাদেশ

সমাজ বদলের পথিকৃৎ ফাহিম আল চৌধুরী

সমাজ বদল কোনো হঠাৎ ঘটে যাওয়া বিস্ময় নয়; এটি এক দীর্ঘ, নীরব যাত্রা—যেখানে উচ্চস্বরে ঘোষণা নয়, বরং দৃঢ় বিশ্বাস ও নিরবচ্ছিন্ন শ্রমই হয়ে ওঠে প্রধান শক্তি। ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, বড় পদ কিংবা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার চেয়েও মানবিক দায়বদ্ধতা সমাজ পরিবর্তনের অধিকতর কার্যকর হাতিয়ার। ফাহিম আল চৌধুরী সেই ধারারই একজন মানুষ, যিনি নিভৃতে, আলোচনার বাইরে থেকেই সমাজ বদলের পথে হেঁটে চলেছেন।
এই সময়ের বাস্তবতায় সমাজসেবা অনেক ক্ষেত্রেই আত্মপ্রচারের মোড়কে বন্দী। মানুষের দুঃখ–দুর্দশা যেন অনেকের কাছে প্রদর্শনীর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই ফাহিম আল চৌধুরীর কাজ স্বতন্ত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ। ফাহিম আল চৌধুরী ট্রাস্টের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি যে উদ্যোগগুলো গ্রহণ করেছেন, তার কেন্দ্রে রয়েছে মানুষ—সংখ্যা নয়, শিরোনাম নয়; বরং জীবনের গল্প। শিক্ষা, মানবিক সহায়তা ও সামাজিক সচেতনতা তৈরির প্রতিটি প্রয়াসে তিনি একটি নৈতিক অঙ্গীকার রক্ষা করে চলেছেন।
তাঁর সমাজসেবার দর্শনকে এক কথায় ব্যাখ্যা করতে হলে বলতে হয়—‘দান নয়, ক্ষমতায়ন’। তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষের হাতে শুধু সহায়তা তুলে দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; তাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখিয়ে দেওয়াই প্রকৃত দায়িত্ব। দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের চোখে নতুন স্বপ্ন জ্বালানো, সংকটে থাকা পরিবারের মধ্যে ভরসার আলো ছড়িয়ে দেওয়া কিংবা হতাশ মানুষের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার মধ্যেই তাঁর কাজের সার্থকতা।
ফাহিম আল চৌধুরী কেবল সমাজসেবার মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। সিলেট টাইটান্সের উপদেষ্টা হিসেবে তিনি ক্রীড়াঙ্গনকে বেছে নিয়েছেন সমাজ গঠনের আরেকটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে। তাঁর কাছে খেলাধুলা কেবল প্রতিযোগিতা নয়; এটি চরিত্র গঠনের পাঠশালা। মাঠের শৃঙ্খলা, দলের প্রতি দায়বদ্ধতা ও নেতৃত্বের শিক্ষা তরুণদের জীবনে যে গভীর প্রভাব ফেলে, তা তিনি গভীরভাবে অনুধাবন করেন।
আজকের তরুণ সমাজ যখন হতাশা, বেকারত্ব ও নৈতিক অবক্ষয়ের মুখোমুখি, তখন খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা তাদের জন্য বিকল্প আশ্রয় হয়ে উঠতে পারে। ফাহিম আল চৌধুরী সেই বাস্তবতা উপলব্ধি করেন বলেই তরুণদের হাতে একটি ইতিবাচক পথ তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
আমার কাছে তাঁর সবচেয়ে উজ্জ্বল পরিচয়—তিনি একজন ‘শোনার মানুষ’। তিনি কথা বলেন কম, শোনেন বেশি। মানুষের না বলা কথাগুলোও বুঝতে চেষ্টা করেন। কারণ অনেক সময় সমস্যার মূল লুকিয়ে থাকে উচ্চারিত বাক্যের আড়ালে। এই সংবেদনশীলতাই তাঁকে সাধারণ সমাজসেবকের গণ্ডি পেরিয়ে এক মানবিক পথপ্রদর্শকে পরিণত করেছে।
যে সমাজে অধিকাংশ মানুষ পরিবর্তনের দায় অন্যের কাঁধে তুলে দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, সেখানে ফাহিম আল চৌধুরী নীরবে সেই দায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। কোনো উচ্চকণ্ঠ স্লোগান ছাড়াই, কোনো রাজনৈতিক সুবিধার আশায় নয়—শুধু মানুষের প্রতি ভালোবাসা থেকেই।
আমাদের সমাজে এমন মানুষের সংখ্যা বাড়া প্রয়োজন—যাঁরা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে না থেকেও সময়ের পাতায় নিজেদের কাজ দিয়ে দাগ কেটে যান। ফাহিম আল চৌধুরী তেমনই একজন মানুষ, যাঁর পথচলা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে।
আমি বিশ্বাস করি, তাঁর এই সমাজ বদলের যাত্রা থেমে থাকবে না। বরং আরও বিস্তৃত হবে, আরও গভীর হবে। আর তাঁর এই নীরব পথচলা দেখেই হয়তো অনেক তরুণ নতুন করে বিশ্বাস করতে শিখবে—মানুষ চাইলে সত্যিই সমাজ বদলাতে পারে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button