ব্যাবসা-বানিজ্য

ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প এখন নতুন আঙ্গিকে বিশ্ববাজারে প্রবেশ করবে, খন্দকার মুক্তাদির

উৎপাদন খরচ কমান, কাঁচামাল সহজলভ্য করুন, তাঁতপণ্যকে টেকসই করে বিশ্ববাজারে উড়ান

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প এখন নতুন আঙ্গিকে বিশ্ববাজারে প্রবেশ করবে—এমন আশা প্রকাশ করেছেন বস্ত্র, পাট, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, “উৎপাদন খরচ কমানো, কাঁচামাল সহজলভ্য করা এবং উচ্চমূল্যের মসলিন ও জামদানি পণ্য টেকসই করা অত্যন্ত জরুরি। প্রতিটি তাঁতপণ্যের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে উন্নত বিপণন অপরিহার্য।”
রবিবার রাজধানীর বেঙ্গল শিল্পালয়ে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের উদ্যোগে এবং বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় শুরু হওয়া ১০ দিনব্যাপী তাঁতশিল্প মেলায় মন্ত্রী এসব মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, “মসলিন ও জামদানি যদি উচ্চমূল্যের না হয়, তা টিকে থাকতে পারবে না। আমাদের লক্ষ্য দেশীয় তাঁত খাতকে বিশ্বের বাজারে ফিরিয়ে আনা।”
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের তাঁতশিল্পের ইতিহাস বহু প্রাচীন। বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পে যুক্ত, গ্রামীণ কর্মসংস্থানে এর অবস্থান দ্বিতীয় এবং বৈদেশিক রপ্তানিতে অবদান ২.৬ শতাংশ। প্রধানমন্ত্রীর ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শন অনুযায়ী সরকার কুটিরশিল্প ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে।
অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, “উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ এবং ই-কমার্স সংযুক্তি তাঁতখাতকে আরও সমৃদ্ধ করবে। দেশের মোট বস্ত্র চাহিদার প্রায় ৪৫ শতাংশ পূরণ করছে তাঁতখাতের পণ্য।”
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও যুগোপযোগী নকশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাঁতপণ্য বিকশিত করতে হবে।
উদ্বোধন শেষে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী মেলার সব স্টল পরিদর্শন করে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট সচিব, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, প্রকল্প পরিচালক ও দর্শনার্থীরা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button