

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
বিগত সরকারের ভুল নীতির কারণে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি জানিয়েছেন, গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মধ্যে ভারতের সঙ্গে ঘাটতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
সোমবার (৮ জুন) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের নীতিগত দুর্বলতার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং ডলার সংকটও বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আমদানি-রপ্তানি পরিসংখ্যান অনুযায়ী সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। অন্যদিকে নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের সঙ্গে বাণিজ্যে উদ্বৃত্ত অর্জিত হয়েছে।
নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশের রপ্তানি আয় এখনও ব্যাপকভাবে তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল। মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশই আসে এই শিল্প থেকে।
জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের ২০২টি দেশে পণ্য রপ্তানি করা হয়েছে।
চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি প্রসঙ্গে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, গত তিন বছর ধরে এ খাতের রপ্তানি আয় প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের পর প্রত্যাশিত সুবিধা অর্জিত না হওয়ায় চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ সক্ষমতা কমেছে এবং খাতটির পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না।
নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, চলতি বছর কোরবানির ঈদে দেশে প্রায় এক কোটি এক লাখ পশু কোরবানি হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০ লাখ চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয়েছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে সন্তোষজনক বলে সরকার মনে করছে।
তিনি আরও বলেন, কোথাও সংরক্ষিত চামড়া বিক্রিতে সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যরা বিষয়টি জানালে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সমন্বয় করে বিক্রির ব্যবস্থা করতে সরকার উদ্যোগ নেবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে বছরে প্রায় ৬৭ বিলিয়ন ডলারের আমদানি এবং ৫৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি হয়। প্রায় ১৩০ বিলিয়ন ডলারের এই বাণিজ্যের মধ্যে কোন পণ্যের মাধ্যমে অর্থ পাচার হচ্ছে, তা নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা গবেষণার বিষয় এবং এ নিয়ে আরও বিশদ অনুসন্ধান প্রয়োজন।



