নির্বাচন

সিলেট-৫ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই এর সম্ভাবনা!

মাত্র কয়েক হাজার ভোটের ব্যবধানে হবেন বিজয়ী এবং বিজিত সহ অন্য প্রার্থীর মধ্যে পার্থক্য

সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের নির্বাচনী মাঠ বর্তমানে বিভিন্ন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের শক্তিমত্তা, আঞ্চলিক প্রভাব এবং তৃণমূলের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে এই আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।

এই লড়াইয়ের অন্যতম প্রতিপক্ষ মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক। প্রখ্যাত শায়খুল হাদিস হিসেবে কানাইঘাটের বিশাল ধর্মীয় জনভিত্তি এবং কওমী মাদরাসাগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক ভোট তার প্রধান শক্তির জায়গা। এর পাশাপাশি জোটের প্রার্থী হওয়ায় বিএনপির একটি বড় অংশ, যারা দলীয় শৃঙ্খলায় বিশ্বাসী, তারা সরাসরি তার প্রতীকেই ভোট দেবেন। তবে মাওলানা ফারুকের এই শক্তিশালী দুর্গে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন মুফতি আবুল হাসান ও চাকসু মামুন । বিএনপির তৃণমূলের একটি অংশের ভোট মামুনুর রশীদের দিকে চলে যাওয়ার সম্ভাবনাও তার জন্য চিন্তার কারণ হতে পারে।

অন্যদিকে, জামায়াত জোটের প্রার্থী মুফতি আবুল হাসান সুবক্তা হিসেবে একটি নিজস্ব ভক্তকুল তৈরি করেছেন। জকিগঞ্জ বাজার মসজিদের ইমাম হিসেবে সেখানে তার জনপ্রিয়তা রয়েছে। বিশেষ করে কানাইঘাটের জামায়াত অধ্যুষিত কেন্দ্রগুলোতে তিনি যদি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভোট নিজের বাক্সে নিতে পারেন, তবে তা মাওলানা ফারুকের একক আধিপত্যে ফাটল ধরাবে। যদিও প্রাতিষ্ঠানিক কওমী ভোটগুলো ফারুকের দিকেই ঝুঁকে থাকার সম্ভাবনা বেশি, তবুও জকিগঞ্জে ব্যক্তিগত ইমেজের কারণে আবুল হাসান বেশ ভালো ভোট পাবেন। নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে তিনি জকিগঞ্জে আরও সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতেন, তবে জোটের প্রার্থী হওয়ায় কানাইঘাটে তার ভোটের পাল্লা ভারী হতে পারে।

এই দুই ধর্মীয় নেতার মাঝখানে নিজস্ব ক্যারিশমা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন মামুনুর রশীদ। বিএনপির তৃণমূল ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা এই স্মার্ট লিডার তার পরিচ্ছন্ন ইমেজ ও মার্জিত আচরণের কারণে জকিগঞ্জে বেশ শক্ত একটি অবস্থান তৈরি করেছেন। কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ না করার রাজনৈতিক শিষ্টাচার তাকে সাধারণ ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। দীর্ঘ সময় এই আসনে বিএনপির নিজস্ব প্রার্থী না থাকায় ক্ষুব্ধ তৃণমূল কর্মীরা মামুনুর রশীদের মাঝেই তাদের রাজনৈতিক ছায়া খুঁজে পাচ্ছেন। ফলে দলীয় সাংগঠনিক চাপের চেয়েও সাধারণ মানুষের এই আবেগ বা “সফট কর্নার” তাকে বাড়তি সুবিধা দেবে।

সামগ্রিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মাওলানা ফারুকের জয় নির্ভর করছে বিএনপির দলীয় ভোট ও কওমী ভোটব্যাংক অটুট রাখার ওপর। বিপরীতে, মুফতি আবুল হাসান যদি জকিগঞ্জে বড় চমক দেখাতে পারেন এবং মাওলানা ফারুকের ধর্মীয় ভোটব্যাংকে ভাগ বসাতে পারেন, তবে তিনি লড়াইয়ে এগিয়ে থাকবেন। আর মামুনুর রশীদের জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হবে যদি তিনি জকিগঞ্জ থেকে বিশাল ব্যবধানে লিড নিতে পারেন এবং কানাইঘাটের তৃণমূল বিএনপির আবেগকে শতভাগ ভোটে রূপান্তর করতে সক্ষম হন।

ভোটের বিশ্লেষণ | সিলেট ০৫-

  • —  আবীর আল নাহিয়ান
  • শিক্ষার্থী, এম সি কলেজ সিলেট।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button