নির্বাচন

নিশ্চিত জয়ের পথে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ (মহানগর ও সদর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি মনোনিত ধানের শীষের প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জামায়াত ইসলামি মনোনীত দাড়িপাল্লার প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখার প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুল হাসান, বাসদ (মার্ক্সবাদী)মনোনিত কাচি’র সঞ্জয় দাস বাসদ (লেনিনবাদী) প্রণব জ্যেতিপাল, সিপিবি’র কাস্তে লাটি মার্কার আনোয়ার হোসেন।

 

স্থানীয় ভোটারদের মতে, অন্য প্রার্থীর তুলনায় মূলত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং মাওলানা হাবিবুর রহমান এর মধ্যেই তবে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ২০১৮ সালে এই আসন থেকে নির্বাচন করেছেন এবং কারচুপির ওই নির্বাচনেও মাত্র ঘন্টা খানেকে ভোটের কাস্টিং এ তিনি লক্ষাধিক ভোট পেয়েছিলেন যে হিসেবে এই আসনে তিনি বিপুল জনপ্রিয় সে যায়গায় মাওলানা হাবিবুর রহমান সিলেট-১ আসন থেকে প্রথম বারের মতো নির্বাচন করেছেন এর পূর্বে তিনি সিলেট-৬ আসন(বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ)থেকে নির্বাচন করেছিলেন তবে বিজয় লাভ করতে পারেন নি।

উক্ত আসনে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এর পিতা প্রয়াত খন্দকার আব্দুল মালিক তিনবারের নির্বাচিত এমপি। তিনি ১৯৭৯ সালে বিএনপি’র প্রথম সংসদে সিলেট-১ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।পরবর্তীতে ১৯৯১সালে সিলেট বিভাগের ১৯ টি আসনের মধ্যে বিএনপি থেকে একমাত্র বিজয়ী এমপি হয়েছিলেন তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৬ সালেও তিনি এই আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর এই আসন থেকে নির্বাচন করে এমপি হয়েছিলেন প্রয়াত বিএনপি স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। পিতা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান এর জনপ্রিয়তা সিলেটে এখনো আকাশচুম্বী যে কারণেই বিগত আওয়ামী সরকারের সময়েও সারাদেশের চিত্র পাল্টে বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। ক্লিন ইমেজের রাজনৈতিক নেতা হিসেবে সিলেট-১ আসন সহ পুরো সিলেটে দলমত নির্বিশেষে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির তুমুল জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

দীর্ঘ ৩০ বছর পর দাড়ি পাল্লা মার্কা সিলেট-১ আসনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা এবং মাওলানা হাবিবুর রহমান এই আসন থেকে এবার প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় বিএনপির দূর্গ সিলেট-১ আসনে অনেকটা নিশ্চিত বিজয়ের পথেই আছেন ধানের শীষের প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ভোটারদের মাঝে নির্বাচনের আমেজ ততই বাড়ছে। পাড়া-মহল্লার দোকানে জমে উঠেছে নির্বাচনের গল্প। গত কয়েক দশকের নির্বাচন আমেজপূর্ণ না হওয়ায় মানুষ এবারের নির্বাচন দেখছে ভিন্ন রূপে। সাদা কালো পোস্টারের দেখা না মিললেও নির্বাচনী প্রচারে সরগরম অনলাইন যোগাযোগ মাধ্যম। ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণে গান, আকর্ষণীয় ভিডিও কনটেন্ট প্রচার করে প্রার্থীরা ভোট প্রার্থনা করছেন। প্রার্থীরা নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ, পথসভা থেকে শুরু করে ব্যতিক্রমী আয়োজন করে দিচ্ছেন নানান প্রতিশ্রুতি। প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারে গণসংযোগ, সভা সমাবেশে ব্যস্ত সময় পার করছেন। উন্নয়ন আর ভোটারদের অধিকার রক্ষা ও দাবি পূরণসহ নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রার্থীরা।

সিলেট সিটি কর্পোরেশন এর বাসিন্দা শাহেদ আহমদ বলেন, ‘আমরা গত কয়েকটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারিনি। এবারের নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে ভোট প্রয়োগ করার একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা সিলেটে অতীতের বিএনপি সরকারের সময়ে যেভাবে উন্নয়ন হয়েছিলো আবারও সেই রকম উন্নয়ন হবে।
নারী উদ্যেক্তা রাবেয়া বেগম জানান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সাহেব নির্বাচিত হলে সিলেট এ শিল্পকারখানা হবে আমাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে তাই আমরা নারী উদ্যেক্তারা ধানের শীষেই ভোট দিবো, এবং সিলেট হবে আধুনিক, নিরাপদ পর্যটন নগরী।’

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ধানের শীষে রায় দিয়ে বিএনপিকে সরকারে পাঠাতে হবে। সিলেট-১ আসন নিয়ে আমার ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে। গত দেড় দশক বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতার বাইরে থাকায় সিলেটের মানুষ উন্নয়নবঞ্চিত হয়েছে। বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে এদেশে প্রচুর উন্নয়ন হবে, দেশের সাথে সিলেটের ও উন্নয়ন হবে।’

জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বলেন, ‘ইনসাফভিত্তিক দেশ গড়ার লক্ষ্যে জামায়াত ইসলাম সবসময় শান্তির বার্তা বহন করে চলছে। দুর্নীতি ও চাঁদাবাজমুক্ত সমাজ ব্যবস্থা ও উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে মানুষ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে।’

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button