

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুতুবা ইউনিয়নে জামায়াতের আমির মাওলানা নুরুল করিমের বাড়ির পেছনে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ঘটনাকে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র দাবি করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য আবুল হাসান মো: অলিউল্যাহ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “সোমবার রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দুই দফায় মাওলানা নুরুল করিমের বাড়িতে অভিযান চালান। পুরো বাড়ি তল্লাশি করা হলেও কোনো অবৈধ বা সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি।”
তিনি আরও বলেন, “তবে মঙ্গলবার সকালে তার বৃদ্ধা মা ঘুম থেকে উঠে দেখতে পান, বাড়ির পেছনে একটি বস্তার মধ্যে দেশীয় অস্ত্র ফেলে রাখা হয়েছে। আমরা মনে করি, এটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।”
জামায়াতের অভিযোগ, ভোলা-২ আসনের এক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রাজনৈতিক সুবিধা নিতে অতীতের মতো অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন। ২০০১ সালের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে ভয়-ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনের চেষ্টা গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ।
সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, ওই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নির্বাচনী জনসভায় মাওলানা নুরুল করিমের বড় ভাই এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা মাওলানা রেজাউল করিম বক্তব্য দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হলে তিনি অংশ নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
জামায়াতে ইসলামী প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়ে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানায়। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে সব ষড়যন্ত্র প্রতিরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মুফতি রেজাউল করিম বোরহানি বলেন, পরিবারকে হেনস্থা করার জন্য একটি মহল পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করছে। তার বৃদ্ধা মাতা ও পরিবারের সদস্যরা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন। তিনি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
বোরহানউদ্দিন থানার এসআই মামুন জানান, দৌলতখান মডেল মসজিদের ইমাম মাওলানা রেজাউল করিম বোরহানির মাধ্যমে খবর পেয়ে তিনি সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। তিনি বলেন, “বাড়ির পেছনে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি বস্তার ভেতর থেকে মরিচা ধরানো ৪০টি রামদা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলমান রয়েছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন—ভোলা-২ আসনের জামায়াত প্রার্থী মুফতি ফজলুল করিম, বোরহানউদ্দিন উপজেলা আমির মো: মাকসুদুর রহমান, পৌর আমির মাওলানা আমান উল্লাহ, এনসিপির ভোলা জেলা সদস্য সচিব মো: মেহেদী হাসান শরীফ, এবং শিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ সভাপতি হেলাল উদ্দিন রুবেল।



