

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ভয়ভীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে দেশের মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। যারা ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই সহিংসতা ও নির্যাতনের পথে হাঁটে, তাদের হাতে জনগণের নিরাপত্তা থাকতে পারে না।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার তফজ্জল আলী কলেজ মাঠে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের মধ্যে ভীতি ছড়ানোর চেষ্টা করছে— দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিলে ধর্মীয় পরিচয় ও বসতভিটা ঝুঁকিতে পড়বে বলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এ ধরনের বক্তব্যকে তিনি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তার ভাষ্য, ইসলাম সব ধর্মাবলম্বীর নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে, তারা দুর্নীতি, দলীয়করণ ও দমন-পীড়নের রাজনীতি করেছে। বিরোধী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা-হামলা চালানো হয়েছে এবং অর্থ পাচারের ঘটনাও ঘটেছে। তিনি দাবি করেন, একটি ইনসাফভিত্তিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যেই জামায়াতে ইসলামীসহ ছয়টি ইসলামী দল, এনসিপি এবং এলডিপিসহ মোট ১১টি দল একজোট হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ করছেন এবং জনগণের সমর্থন পেলে সরকার গঠন সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
ছাত্ররাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে নানা অভিযোগ ও অপপ্রচারের মধ্যেও ছাত্রশিবির জয় পেয়েছে। এটি পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও সহিংসতামুক্ত রাজনীতির জন্য দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আতাউর রহমান সরকারের পক্ষে ভোট চান মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, জোট ক্ষমতায় এলে এলাকার উন্নয়নে কাজ করা হবে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির সভাপতি কাজী সিরাজুল ইসলাম। সঞ্চালনায় ছিলেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির শিবলী নোমানী ও সেক্রেটারি গোলাম সারোয়ার। এতে আরও বক্তব্য দেন জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
সমাবেশ ঘিরে দুপুর থেকেই কলেজ মাঠে বিপুলসংখ্যক ভোটার, কর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতি দেখা যায়।



