স্বাস্থ্য

জাপানিদের যেসব অভ্যাস আপনাকেও রাখবে সুস্থ ও কর্মচঞ্চল

সুস্থ, কর্মচঞ্চল ও রোগমুক্ত জীবন সবারই প্রত্যাশা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, আমাদের দেশে অনেকেই চল্লিশ পেরোতেই ক্লান্তি, নানা শারীরিক জটিলতা ও অসুখে ভুগতে শুরু করেন। অথচ এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা পঞ্চাশ কিংবা তারও বেশি বয়সে পৌঁছেও ফিট, সক্রিয় ও প্রাণবন্ত জীবন কাটান।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশভেদে মানুষের গড় আয়ুতে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। কোথাও গড় আয়ু ৪৬–৫৫ বছরের মধ্যে, আবার উন্নত কিছু দেশে তা ৮২–৮৫ বছর পর্যন্ত। এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে জাপান।

জাপানিদের গড় আয়ু প্রায় ৮৪ বছর এবং তুলনামূলকভাবে তারা কম রোগব্যাধিতে ভোগেন। চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, এর পেছনে কোনো রহস্য নয়—বরং সুশৃঙ্খল জীবনধারা, পরিমিত খাদ্যাভ্যাস ও কিছু সহজ কিন্তু কার্যকর অভ্যাসই মূল কারণ।

স্বাস্থ্যকর খাবারই অগ্রাধিকার
জাপানিদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় নিয়মিত থাকে মাছ, সামুদ্রিক খাবার, সয়াবিন, ফার্মেন্টেড খাবার ও চা। লাল মাংস, চিনি, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার তারা খুব কম খান। ফলও খান পরিমিত পরিমাণে। শর্করার প্রধান উৎস হিসেবে তারা মিষ্টি আলুকে বেছে নেন, যার জটিল শর্করা দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে এবং রক্তে শর্করা হঠাৎ বাড়তে দেয় না।

সকালের খাবার কখনো বাদ নয়
জাপানিরা সকালের খাবারকে দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আহার মনে করেন। ফাস্টফুড বা পাউরুটির বদলে তারা খান ভাত, জাউভাত কিংবা সেদ্ধ বা ভাজা মাছ। রিফাইনড আটা বা ময়দা এড়িয়ে চলাই তাদের অভ্যাস।

ধীরে ও মনোযোগ দিয়ে খাওয়া
তারা কখনো তাড়াহুড়া করে খান না। ধীরে ধীরে ভালোভাবে চিবিয়ে, অনেক সময় পরিবারের সঙ্গে গল্প করতে করতে খাবার খান। এতে হজম ভালো হয় এবং মানসিক প্রশান্তিও বজায় থাকে।

সহজ ও হালকা রান্না
অতিরিক্ত ভাজাপোড়া জাপানিদের খাবারে খুব একটা দেখা যায় না। স্টিমড, সেদ্ধ বা ফার্মেন্টেড খাবারই তাদের পছন্দ। অল্প তেলে, কম সময়ে রান্না করা খাবার তাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের অংশ।

কম খাওয়া, কিন্তু প্রয়োজন অনুযায়ী
জাপানিরা অতিরিক্ত খাওয়ার অভ্যাস করেন না। শরীরের যতটুকু দরকার, ঠিক ততটুকুই গ্রহণ করেন। ফলে বাড়তি ক্যালরি জমে না, ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং শরীর থাকে সুস্থ।

সয়ার গুরুত্ব
সয়া জাপানিদের খাদ্যতালিকার অপরিহার্য উপাদান। টফু, মিসো, ন্যাটো কিংবা সয়া দুধ—সবখানেই সয়ার ব্যবহার রয়েছে। সয়ায় থাকা উন্নতমানের প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও কার্বোহাইড্রেট শরীরকে শক্তিশালী রাখে, পেশি সুগঠিত করে এবং বার্ধক্যের প্রভাব ধীরে আসে।

বয়স বাড়া স্বাভাবিক, তবে বয়সের সঙ্গে অসুস্থতা অনিবার্য—এই ধারণা জাপানিরা ভুল প্রমাণ করেছেন। সচেতন জীবনযাপন, পরিমিত খাদ্যাভ্যাস ও কিছু ভালো অভ্যাসই দীর্ঘদিন সুস্থ, সক্রিয় ও প্রাণবন্ত থাকার পথ দেখাতে পারে। আজ থেকেই ছোট ছোট স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে জীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button