

ফল খেতে কারো না কারো নিশ্চয়ই ভালো লাগে—আম, কলা, তরমুজ বা আঙুর। কিন্তু ডায়াবেটিস থাকলে অনেকের মনে হয়, এগুলো খেলে রক্তে শর্করা হু হু করে বেড়ে যাবে। এই ভয় থেকেই অনেকে একেবারে ফল খাওয়া বন্ধ করে দেন।
কিন্তু সত্যিটা হলো—এটা সব সময় সঠিক নয়।
ফল আমাদের শরীরের জন্য ভিটামিন, খনিজ ও ফাইবারের একটি প্রাকৃতিক ভাণ্ডার। ডায়াবেটিস থাকলেও ফল পুরোপুরি বাদ দেওয়ার দরকার নেই, যদি শুধু সঠিকভাবে খাওয়া যায়। মূল বিষয় হলো ফলের ধরন, পরিমাণ এবং খাওয়ার সময়—এই তিনটির ভারসাম্য রাখা।
সব ফল একরকম নয়। কিছু ফল রক্তে শর্করা ধীরে বাড়ায়, আবার কিছু দ্রুত প্রভাব ফেলে। তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ফলের মধ্যে রয়েছে আপেল, নাশপাতি, কমলা, বেরি জাতীয় ফল। আর আম, কলা, আঙুর, তরমুজ—এসব খাওয়া যাবে, তবে সীমিত পরিমাণে।
পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ: এক বেলায় একটি মাঝারি ফল বা এক কাপ কাটা ফল যথেষ্ট। একবারে অনেক খাওয়া ঠিক নয়; অল্প অল্প করে খাওয়া ভালো।
খাওয়ার সময়: খালি পেটে ফল খেলে রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। খাবারের কিছুক্ষণ পরে ফল খাওয়া ভালো।
ফলের রস নয়: জুসে ফাইবার থাকে না, চিনি সবই থাকে। ফলে রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যায়। তাই গোটা ফল খাওয়া সর্বোত্তম।
ব্যক্তিগত ভিন্নতা: প্রত্যেকের শরীর আলাদা। নতুন ফল খেলে মাঝে মাঝে ব্লাড সুগার মাপলে নিজের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ।
নিরাপদ ফল: আপেল, পেয়ারা, নাশপাতি, কমলা, মাল্টা, পেঁপে, বেদানা, স্ট্রবেরি—এসব ফলের ফাইবার বেশি, রক্তে শর্করা ধীরে বাড়ে।
সতর্ক থাকতে হবে এমন ফল: আম, কলা, কাঁঠাল, আঙুর, লিচু—প্রাকৃতিক চিনি বেশি। একেবারে নিষিদ্ধ নয়, তবে অল্প পরিমাণে এবং নিয়মিত নয়।
কখন ও কীভাবে খাওয়া উচিত: খাবারের মাঝামাঝি সময় বা হালকা নাস্তা হিসেবে ফল খাওয়া ভালো। এক বেলায় এক ধরনের ফলই যথেষ্ট।
সংক্ষেপে, ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ফল শত্রু নয়। সঠিক ফল, সঠিক পরিমাণ এবং সঠিক সময়—এই তিনটি মানলে ফল ডায়েটের অংশ হতে পারে।
সূত্র: আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, মায়ো ক্লিনিক।



