

‘আপনাদের রানী কারো কাছে বিক্রি হয় না, কারো সঙ্গে আপস করে না।’ দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একমাত্র তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থী আনোয়ারা ইসলাম রানী সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।
একই সঙ্গে তিনি তৃতীয় লিঙ্গসহ সব সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের দাবি জানিয়েছেন। রংপুর-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে শেষ মুহূর্তে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
শনিবার রাত ৮টায় রংপুর নগরীর নূরপুরে ন্যায় অধিকার তৃতীয় লিঙ্গ উন্নয়ন সংস্থার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। রানী বলেন, “কারো সঙ্গে আপস বা বিক্রি না হয়ে বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান জানাতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাকে ভুল বুঝবেন না, কষ্ট পাবেন না। এটি কোনো বিদায় নয়; এটি একটি দৃঢ়, নীতিগত ও শান্তিপূর্ণ পদক্ষেপ। একই সঙ্গে আমার এই যৌক্তিক দাবির পক্ষে সংহতি জানিয়ে আমাকে শক্তিশালী করবেন, যাতে হিজড়া জনগোষ্ঠীসহ সব প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের সাংবিধানিক স্বীকৃতি আদায় সম্ভব হয়।”
আনোয়ারা ইসলাম রানী আরও বলেন, “যুগের পর যুগ ধরে হিজড়া, আদিবাসী, হরিজনসহ বিভিন্ন প্রান্তিক জনগোষ্ঠী দেশের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত এবং শিক্ষার, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার। এমনকি সামাজিক বঞ্চনা এতদূর গিয়েছে যে লাশ দাফনেও বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। আমরা এই প্রান্তিকতার অবসান চাই।”
রানী ন্যায় অধিকার তৃতীয় লিঙ্গ উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি এবং রূপান্তরের উদ্যোক্তা। তিনি ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে ঈগল প্রতীকে ২৩ হাজার ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হন। ওই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের ৮১ হাজার ভোটে নির্বাচিত হন।
রংপুর-৩ আসন রংপুর সদর ও রংপুর সিটি করপোরেশনের ১০ থেকে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে। এখানে ১৬৯টি ভোট কেন্দ্রে মোট ভোটার ৫ লাখ ৮ হাজার ২৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫২ হাজার ৩৭০, নারী ২ লাখ ৫৫ হাজার ৮৪৯ এবং হিজড়া ৫ জন। ইতোমধ্যে ৫ হাজার ২৩০ ভোটার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদানের জন্য নিবন্ধন করেছেন।



