বোরিতে পুনরায় সক্রিয় হয়েছে ফ্যাসিস্ট লীগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীঃ ফ্যাসিস্ট লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নে প্রাতিষ্ঠানিক বিশৃংখলা তৈরির অপচেষ্টা


পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বেরোবি)-এ দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি অভিযোগভিত্তিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে গবেষণা কার্যক্রম, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও কর্মপরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে আসছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নিয়োগ প্রক্রিয়া, আউটসোর্সিং কার্যক্রম, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন, ক্রয় কার্যক্রম এবং গবেষণা তহবিল ব্যবস্থাপনায় নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করে নিজেদের সুবিধা নিশ্চিত করেছে এবং এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।
অভিযোগে প্রিন্সিপাল সায়েন্টিফিক অফিসার মো. হাসিবুল ইসলাম, ট্রান্সপোর্ট সুপারভাইজার শাহরিয়ার মো. মিনহাজুল ইসলাম এবং মেডিকেল টেকনিশিয়ান সারোয়ার দত্তসহ কয়েকজন কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়োগে অনিয়ম, সরকারি অর্থের অপব্যবহার, প্রশাসনিক হয়রানি এবং বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এছাড়া গবেষণা প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনা, নমুনা সংগ্রহ, ঠিকাদারি কার্যক্রম এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। নারী কর্মীদের হয়রানি এবং কর্মপরিবেশ নষ্ট করার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব ও পৃষ্ঠপোষকতার কারণে অভিযুক্তদের একটি অংশ প্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়। তাদের অভিযোগ, তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে সংশ্লিষ্ট চক্রটি বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করেছে এবং নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে চলা এসব অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানের গবেষণা কার্যক্রম, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একইভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
এদিকে, বর্তমান প্রশাসনের অধীনে গবেষণা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট মহল অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম রক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমের স্বার্থে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।



