বোরিতে পুনরায় সক্রিয় হয়েছে ফ্যাসিস্ট লীগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীঃ ফ্যাসিস্ট লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নে প্রাতিষ্ঠানিক বিশৃংখলা তৈরির অপচেষ্টা
প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টার অভিযোগ; অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য ও অপপ্রচারের নানা দাবি


বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বোরি)–এ ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে গবেষণা কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি, প্রশাসনিক কাজে হস্তক্ষেপ এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিশৃঙ্খলা তৈরির অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি গণমাধ্যমে পাঠানো একটি লিখিত অভিযোগপত্রে এসব দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, সাবেক মহাপরিচালক ও মৎস্য সচিব (অপসারিত) সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দারের দায়িত্বকালে কয়েকজন কর্মকর্তাকে অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁদের একটি অংশ পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ, আউটসোর্সিং ও কেনাকাটাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, পরবর্তী সময়ে সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক তৌহিদা রশীদের দায়িত্বকালেও ওই গ্রুপ সক্রিয় ছিল এবং বিভিন্ন নিয়োগ ও ক্রয় কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। তবে সে সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে প্রিন্সিপ্যাল সায়েন্টিফিক অফিসার মো. হাসিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে গবেষণা প্রকল্পে অনিয়ম, নিলাম কার্যক্রমে দুর্নীতি, নিয়োগে হস্তক্ষেপ এবং বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘন করে ব্যবসা পরিচালনা ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নতুন মহাপরিচালক দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হলে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করে। গবেষণা কার্যক্রমে জিপিএস ট্র্যাকিং চালু, কেনাকাটায় কড়াকড়ি এবং প্রশাসনিক সংস্কার কার্যক্রমের বিরোধিতা করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ট্রান্সপোর্ট সুপারভাইজার শাহরাজ মো. মিনারুল ইসলাম, মেডিক্যাল টেকনিশিয়ান সাগর দত্ত এবং রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট অনামিকা শর্মার বিরুদ্ধেও বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম, অপপ্রচার ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে গবেষণার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অভিযোগকারীরা বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।



