

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসান চট্টগ্রামে পুলিশের হাতে হেনস্তা ও মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও দুই কনস্টেবলকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
শুক্রবার রাতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষে রাত ১০টা ২০ মিনিটের দিকে চট্টগ্রামে পৌঁছান নাঈম। পরে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি সিএনজি অটোরিকশায় করে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে লালখান বাজার এলাকায় পুলিশ তার বহনকারী অটোরিকশাটি থামায়।
নাঈমের অভিযোগ, ডিবি পুলিশের পরিচয় দেওয়া কয়েকজন সদস্য চালকের কাগজপত্র জব্দ করেন এবং তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে পুলিশের গাড়িতে তোলেন। এ সময় তিনি জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে নিজের পরিচয় ও পরিচয়পত্র দেখালেও তা উপেক্ষা করা হয়। তার দাবি, খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন এবং সাদা পোশাকে থাকা আরেক ব্যক্তি পাইপ দিয়ে মারধর করেন।
ঘটনার সময় আশপাশের ১০০ থেকে ২০০ মানুষ জড়ো হয়ে পুলিশকে নাঈমের পরিচয় জানানোর চেষ্টা করেন। তবে পুলিশ সদস্যরা তাকে ‘আসামি’ বলে চুপ থাকতে বলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। একপর্যায়ে তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও পরে খুলশী থানায় নেওয়া হয়। থানায়ও তিনি হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন।
নাঈম জানান, পরবর্তীতে একটি ফোনকল আসার পর পরিস্থিতি পরিবর্তন হয় এবং থানায় তার সঙ্গে আচরণে পরিবর্তন আসে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উত্তর বিভাগের উপকমিশনার আমিরুল ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্ট সিএনজি অটোরিকশাটির বিরুদ্ধে চোরাচালানের তথ্য ছিল। তবে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ভুল বা নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের কিছু ত্রুটি ছিল বলে মনে হয়েছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, অভিযানের বিষয়ে এসআই শফিকুল ইসলাম তাকে আগে থেকে অবহিত করেননি। থানায় আনার পর তিনি জানতে পারেন যে নাঈম হাসান জাতীয় দলের ক্রিকেটার। পরে তার কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হয় এবং সম্মানের সঙ্গে চলে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। তবে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত তারা থানায় অবস্থান করেন বলে জানান তিনি।
ঘটনার পর এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল এবং অভিযানে অংশ নেওয়া আরও এক কনস্টেবলকে তাৎক্ষণিকভাবে ক্লোজড (প্রত্যাহার) করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, নাঈম হাসানের অভিযোগ এবং পুলিশের বক্তব্য—উভয় বিষয়ই বর্তমানে তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে।



