জাতীয়

দেবীদ্বারে এনসিপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ

অনলাইন নিউজ ডেস্ক

কুমিল্লার দেবীদ্বারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক দিনমজুরের ওপর হামলা, হত্যাচেষ্টা এবং টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর দাবি, বিএনপির শরিক দল গণঅধিকার পরিষদের ‘ট্রাক’ প্রতীকের এজেন্ট হিসেবে কাজ করায় এনসিপির কয়েকজন নেতাকর্মী তার ওপর হামলা চালান। তবে অভিযুক্ত এনসিপি নেতা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

হামলার শিকার মহিউদ্দিন জানান, নির্বাচনের দিন তিনি এক আত্মীয়ের কাছে ট্রাক প্রতীকে ভোট চান। এ সময় এনসিপির সমর্থকেরা ওই ভোটারকে শাপলা-কলি প্রতীকে ভোট দিতে বলেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।

মহিউদ্দিনের অভিযোগ, নির্বাচনের পরদিন রাতে স্থানীয় বাজারে এনসিপি নেতা আল-আমিনের নেতৃত্বে ২০ থেকে ৩০ জনের একটি দল তার ওপর হামলা চালায়। স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি প্রাণে রক্ষা পান। হামলার সময় সন্তানের চিকিৎসার জন্য সঙ্গে থাকা ১১ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মহিউদ্দিনের স্ত্রী হ্যাপি বেগম দাবি করেন, বিএনপির রাজনীতি করার অভিযোগ তুলে তার স্বামীকে মারধর করা হয়েছে। তিনি বলেন, হামলাকারীরা ব্যারিকেড দিয়ে তার স্বামীকে ঘিরে ফেলে এবং মাথায় আঘাত করে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি।

ভুক্তভোগীর বড় ভাইয়ের অভিযোগ, এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। বরং তাদের ‘আগুন নিয়ে খেলবেন না’ বলে সতর্ক করা হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেবীদ্বারে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনে হাসনাত আবদুল্লাহ ভূমিকা রাখছেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

মহিউদ্দিনের বাবা মনু মিয়া বলেন, মামলা না হওয়ায় নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তারা অভিযুক্তদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেখানেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তার অভিযোগ।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আল-আমিন মোল্লা বলেন, তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। কারা মহিউদ্দিনকে মারধর করেছে, সেটিও তার জানা নেই। টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কেও তিনি নিশ্চিত নন বলে জানান।

এদিকে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনার বিষয়ে তিনি অবগত নন। তার ভাষ্য, এ ঘটনায় কেউ থানায় মামলা করতে আসেনি বলেই তার জানা রয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button