সারাদেশ

পরকীয়া প্রেমের জেরে স্বামীকে খুন, মাটিচাপা দেওয়ার পর ঘরে কাদামাটির লেপ দেন স্ত্রী

অনলাইন নিউজ ডেস্ক

বরিশালের মুলাদী উপজেলায় নিখোঁজের তিন দিন পর এক কৃষকের মরদেহ নিজ বাড়ির রান্নাঘরের পাশ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ বলছে, পরকীয়ার সম্পর্কের জেরে স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে অপহরণের নাটক সাজানোর অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (২৯ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার চরমালিয়া গ্রামে নিহত হারুন হাওলাদারের (৫৯) বাড়ির রান্নাঘরসংলগ্ন এলাকা থেকে মাটি খুঁড়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের মৃত অছিমদ্দিন হাওলাদারের ছেলে।

পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার রাতে হারুন হাওলাদার নিখোঁজ হন। এরপর তার স্ত্রী সেলিনা বেগম দাবি করেন, গভীর রাতে কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তার স্বামীর হাত ও চোখ বেঁধে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ট্রলারে করে চলে যায়। এ ঘটনার ভিত্তিতে নিহতের ছেলে জাফর হাওলাদার শনিবার রাতে মুলাদী থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন, যেখানে সেলিনা বেগম প্রধান সাক্ষী ছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিখোঁজের খবর পাওয়ার পর শনিবার সকালেই মুলাদী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) তারেক আমান বান্নার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে।

স্থানীয় সফিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হেলাল ব্যাপারী জানান, শুরু থেকেই সেলিনা বেগমের বক্তব্য ও আচরণে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তাদের দাবি, ঘটনার রাতে ঘরের মেঝে নতুন করে কাদামাটি দিয়ে লেপে দেওয়া হয়েছিল। পরে সোমবার সকালে প্রতিবেশীরা বাড়ির আশপাশে খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে রান্নাঘরের পাশে নতুন খোঁড়া মাটি দেখতে পান। সেখানে মানুষের আঙুলের মতো কিছু দেখা গেলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ মাটি খুঁড়ে হারুন হাওলাদারের মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী সেলিনা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে পরকীয়ার সম্পর্ক নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা যাচ্ছে না।

পুলিশ বলছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button