অপরাধরাজনীতি

জকিগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতাকে রক্ষায় বৈষম্যবিরোধী নেতা জাফরের ওপর যুব জামায়াতের হামলা!

জকিগঞ্জ উপজেলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুশ শহীদকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে আনতে উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি আবিদুর রহমান ও সেক্রেটারী মিজানুর রহমান,বারহাল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা মুস্তাক আহমদ বিএনপি নেতা ও ঠিকাদার সাব্বির আহমদ জকিগঞ্জ বেশ কয়েকজন প্রশাসন কে চাপ প্রয়োগ করেন এবং বাকবিতন্ডায় সময় মামলার বাদীর ওপর হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রশাসনের কাছে আটক অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা,জকিগঞ্জ উপজেলার ০৯নং মানিকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান,ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত আব্দুশ শহীদ মেম্বার। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা মামলার অন্যতম আসামি।

জানা যায়,গত মামলার বাদী জাফর আহমদ ব্যক্তিগত কাজে জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদে যান।এ সময় তিনি উপজেলা পরিষদের প্রকল্প অফিসে আব্দুশ শহীদ মেম্বারসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতাকে বৈঠক করতে দেখেন। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে তিনি পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আব্দশ শহীদ মেম্বারকে গ্রেফতারের উদ্যোগ নেয়। এ সময় জামায়াতের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতাও

সেখানে উপস্থিত হয়ে গ্রেফতারে বাধা দেন।

একপর্যায়ে উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি দেলওয়ার হোসেন লস্কর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মামলার বাদীর পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি পুলিশকে বলেন,যদি শহীদ মেম্বার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হন,তবে তাকে গ্রেফতার করা পুলিশের দায়িত্ব।এতে ক্ষুব্ধ হয়ে যুব জামায়াতের সভাপতি ও সেক্রেটারী দেলওয়ার হোসেন লস্করকেও হেনস্তার চেষ্টা করেন বলে জানা যায়।দীর্ঘ নাটকীয়তার পর পুলিশ শেষ পর্যন্ত আব্দুশ শহীদ মেম্বারকে গ্রেফতার করতে বাধ্য হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা জানা গেছে,আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শহীদ মেম্বার উপজেলার একাধিক অবকাঠামোগত প্রকল্পের টেন্ডার বাগিয়ে নেন।বর্তমানে এসব প্রকল্পের দেখভাল করছেন যুব জামায়াতের সভাপতি আবিদুর রহমান ও তারই ভগ্নিপতি যুব জামায়াতের সেক্রেটারী মিজানুর রহমান এবং জামায়াত নেতা বারহাল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমেদ এবং বিএনপি নেতা ঠিকাদার সাব্বির আহমদ সহ বিএনপি জামায়াতের কয়েকজন নেতা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জামায়াত নেতা বলেন,দলের প্রভাব কাটিয়ে প্রভাবশালী একটি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ০৫ আগষ্ট পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ নেতা লোকমান চৌধুরী,মহসিন মর্তুজা টিপুসহ একাধিক আওয়ামী নেতার প্রকল্প,ব্যবসা ও বাণিজ্যের নিরাপত্তা দিয়ে আসছে।

উক্ত ঘটনা নিয়ে উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি দেলওয়ার হোসেন লস্কর এক ভিডিও বার্তায় বলেন,”ফ্যাসিবাদী আমলে আমরা আওয়ামী লীগের মামলা ও হামলার শিকার হয়ে বারবার কারাগারে গিয়েছি।
তখন এসব এসব হাইব্রিড নেতারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আপস করে সুবিধা নিয়েছে।তারা আগে যেমন দুর্নীতি করত,এখনও তাই করছে।আব্দুশ শহীদ আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা ও মামলার অন্যতম আসামী ছিল।ফ্যাসিবাদী বিরোধী আন্দোলনে আমরা বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী ঐক্যবদ্ধ ভাবে আছি।”

অন্যদিকে যুব জামায়াতের সভাপতি আবিদুর রহমান তার ভেরিফাই ফেইসবুক আইডিতে লিখেন-“চ্যালেঞ্জ দিয়ে রাখলাম!আব্দুস শহিদ মেম্বার কোন রাজনৈতিক কর্মী নয়।কোন রাজনৈতিক দলের দায়িত্বে নাই।কোন ধরনের মামলা ছাড়া মব করে একজন সাধারণ মানুষকে হয়রানি কি জুলুম নয়??

উক্ত ঘটনা নিয়ে স্যোসাল মিডিয়া,স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী সহ রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা চলছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button