জাতীয়

গুম-খুনের সম্মতি উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা, প্রশ্ন হাসনাত আবদুল্লাহর

অনলাইন নিউজ ডেস্ক

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের আড়ালে মানবাধিকার লঙ্ঘন, ভোট কারচুপি, গুম, খুন এবং আর্থিক অনিয়মের পক্ষে জনমত তৈরির অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা জানতে চেয়েছেন এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

রোববার (৭ জুন) জাতীয় সংসদে এক সম্পূরক প্রশ্নে তিনি বিষয়টি উত্থাপন করেন। জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী বলেন, সাংবাদিক, রাজনীতিক, ব্যবসায়ী বা সরকারি কর্মকর্তা—কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। কোনো ব্যক্তি আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পূরক প্রশ্নে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, গত দেড় দশকেরও বেশি সময় দেশে স্বাধীন ও পেশাদার সাংবাদিকতা চর্চা নানা চ্যালেঞ্জের মুখে ছিল। তবে সেই পরিস্থিতির মধ্যেও অনেক সাংবাদিক পেশাগত দায়িত্ব ও নৈতিকতা বজায় রেখে কাজ করেছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, ওই সময়ে কিছু গণমাধ্যম ও সাংবাদিক রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, ভোট কারচুপি এবং রাজনৈতিক দমন-পীড়নের পক্ষে জনমত তৈরিতে ভূমিকা রেখেছেন। পাশাপাশি, এসব অভিযোগের মুখে থাকা কিছু ব্যক্তি বর্তমানে বিভিন্ন গণমাধ্যমে পুনরায় সক্রিয় হচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সরকার সমুন্নত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে গণতন্ত্রবিরোধী, সন্ত্রাসী বা অন্য কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইনের বাইরে নয়। অভিযোগের ভিত্তিতে যথাযথ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সময় সরকারি দলের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন ফারুক স্থানীয় পর্যায়ে সাংবাদিক পরিচয়ের অপব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক ব্যক্তি সাংবাদিকতার ন্যূনতম পেশাগত যোগ্যতা ছাড়াই বিভিন্ন পরিচয়পত্র ব্যবহার করে নিজেদের সংবাদকর্মী হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য প্রচার করছেন।

জবাবে ইয়াসির খান চৌধুরী বলেন, ভুল তথ্য (মিসইনফরমেশন) ও অপতথ্য (ডিসইনফরমেশন) প্রতিরোধে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে একটি মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, নতুন অনলাইন পোর্টাল ও ডিজিটাল গণমাধ্যমের নিবন্ধন ও অনুমোদনের জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। ভবিষ্যতে এই নীতিমালার আওতায় অনলাইনভিত্তিক গণমাধ্যম পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button