সারাদেশ

অসহায়ের ছদ্মবেশে আশ্রয়, পরে আশ্রয়দাতার শিশু অপহরণ

অনলাইন নিউজ ডেস্ক

কক্সবাজারে বন্দি স্বামীকে দেখতে এসে অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে একটি পরিবারের কাছে আশ্রয় নেওয়ার পর সেই পরিবারের চার বছরের এক শিশুকে অপহরণের অভিযোগে এক রোহিঙ্গা নারীকে আটক করেছে পুলিশ। অপহরণের চারদিন পর রোববার (৭ জুন) বিকেলে মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালীর দেবাঙ্গাপাহাড় এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, ৩ জুন কক্সবাজার কারাগারে বন্দি স্বামীকে দেখতে আসেন কুতুপালং ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা রংবাহার। এ সময় মোবাইল ফোন হারানোর কথা বলে তিনি বিপাকে পড়েছেন দাবি করেন। পরে খাবার ও রাতযাপনের জন্য আশ্রয় চাইলে কারাগারসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন ও তার স্ত্রী সুমি আক্তার মানবিক কারণে তাকে নিজেদের বাসায় থাকতে দেন।

পরিবারটির অভিযোগ, আশ্রয় নেওয়ার সময় রংবাহার তার প্রকৃত পরিচয় গোপন করেন। কয়েকদিন স্বাভাবিক আচরণের পর ৫ জুন শিশুটিকে নাস্তা কিনে দেওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে যান তিনি। এরপর শিশুটিকে জিম্মি করে পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। একপর্যায়ে অপহরণকারীদের চাপে পরিবার ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও শিশুটিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি।

ঘটনার পর কক্সবাজার সদর মডেল থানায় অভিযোগ করা হলে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। তদন্তের সূত্র ধরে মহেশখালীর দেবাঙ্গাপাহাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার এবং অভিযুক্ত নারীকে আটক করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে আটক রংবাহার নিজেকে রোহিঙ্গা বলে স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, কলাতলীর গইয়ুমতলী ভাঙারমোড় এলাকার এখলাস নামের এক ব্যক্তির পরামর্শে শিশুটিকে নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি অপহরণে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

শিশুটির মা সুমি আক্তার বলেন, মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়েছিলাম। পরে বুঝতে পেরেছি, পরিকল্পিতভাবেই আমাদের বাসায় অবস্থান নিয়েছিল সে। এর পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করে থাকতে পারে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, অপহৃত শিশুকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। আটক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না এবং কোনো সংঘবদ্ধ চক্রের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button