

‘গ্যাস্ট্রিক’ শব্দটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে খুবই পরিচিত। বুকজ্বালা, পেট ফাঁপা, ঢেকুর, বমি ভাব কিংবা খালি পেটে ব্যথা—এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলেই আমরা ধরে নিই গ্যাস্ট্রিক হয়েছে। তখন অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই নানা ধরনের ওষুধ বা সিরাপ খেতে শুরু করেন। কেউ কেউ তো বছরের পর বছর গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেয়ে যান, অথচ এর দীর্ঘমেয়াদি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন নন। বাস্তবে এসব উপসর্গ দেখা দিলেই যে ওষুধ খাওয়া জরুরি, তা কিন্তু নয়।
গ্যাস্ট্রিক আসলে কী
গ্যাস্ট্রিক বলতে সাধারণত পাকস্থলীর ভেতরের আবরণে প্রদাহ বা অতিরিক্ত অ্যাসিড নিঃসরণকে বোঝায়। এটি অল্প সময়ের জন্য হতে পারে, আবার দীর্ঘদিন চললে ক্রনিক গ্যাস্ট্রাইটিস, পেপটিক আলসার কিংবা আরও জটিল সমস্যার জন্ম দিতে পারে। গ্যাস্ট্রিকের পেছনে বেশ কিছু সাধারণ কারণ রয়েছে—অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস ও দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা, অতিরিক্ত ঝাল ও ভাজাপোড়া খাবার খাওয়া, ধূমপান ও অতিরিক্ত চা-কফি পান, মানসিক চাপ ও ঘুমের অভাব। কিছু ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণও দায়ী।

ওষুধই কি একমাত্র সমাধান
গ্যাস্ট্রিকের চিকিৎসায় সাধারণত অ্যান্টাসিড, এইচ-টু ব্লকার বা প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা হয়। এসব ওষুধ পাকস্থলীর অ্যাসিড কমিয়ে উপসর্গে সাময়িক স্বস্তি দেয়। তবে দীর্ঘদিন অপ্রয়োজনে এসব ওষুধ সেবনের ফলে ভিটামিন বি১২ ও আয়রনের ঘাটতি, হজমের সমস্যা এবং অন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
লাইফস্টাইল পরিবর্তনের গুরুত্ব
গ্যাস্ট্রিক নিয়ন্ত্রণে জীবনযাপনের পরিবর্তন অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। সময়মতো খাবার খাওয়া, একবারে বেশি না খাওয়া, অতিরিক্ত ঝাল ও ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলা, রাতে ঘুমানোর অন্তত তিন থেকে চার ঘণ্টা আগে খাবার শেষ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ধূমপান ও অ্যালকোহল বর্জন, অকারণে ব্যথানাশক ওষুধ না খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ কমানো গ্যাস্ট্রিক কমাতে সহায়ক।
এইচ পাইলোরি সংক্রমণ
অনেক ক্ষেত্রে গ্যাস্ট্রিকের মূল কারণ হলো হ্যালিকোব্যাকটার পাইলোরি নামের একটি ব্যাকটেরিয়া। এটি পাকস্থলীতে দীর্ঘদিন বাস করে প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং আলসার এমনকি পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। স্টুল টেস্ট, ইউরিয়া ব্রেথ টেস্ট বা এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে এইচ পাইলোরি শনাক্ত হলে অ্যান্টিবায়োটিকসহ পূর্ণ চিকিৎসা গ্রহণ করা জরুরি।
কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন
গ্যাস্ট্রিকের সঙ্গে যদি ওজন কমে যাওয়া, কালো পায়খানা, রক্তবমি, দীর্ঘদিনের পেটব্যথা, খাবার গিলতে কষ্ট, বারবার বমি বা পেটে চাকা অনুভব করার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে রক্তশূন্যতা বা নতুন করে গ্যাস্ট্রিকের উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে এন্ডোস্কোপিসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা হতে পারে।



