

হেলাল আহমদ জৈন্তাপুর প্রতিনিধি:
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ নিয়ে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন ছড়ালেও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বলছে, এসবের কোনো নিশ্চিত ভিত্তি নেই। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, খাতা দেখার কার্যক্রম শেষ হলে ফল প্রকাশ করা হবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা প্রকাশের চেষ্টা চলছে।
সোমবার রাতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের পরিচালক এ কে সামছুল আহসান বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে ফল প্রকাশ, ভাইভা ও চূড়ান্ত নিয়োগ হবে কি না—এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, সে বিষয়ে ইসি বা সরকার থেকে তাদের কোনো নির্দেশনা আসেনি। তিনি জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন এবং খুব শিগগিরই ফল প্রকাশ করা হবে।
২০ জানুয়ারির মধ্যে ফল প্রকাশের সম্ভাবনা আছে কি না—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, এ বিষয়ে অনুমাননির্ভর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে এবং অধিদপ্তর স্পেসিফিকভাবে কোনো তারিখ নির্ধারণ করেনি। ফল প্রকাশের নির্দিষ্ট দিন এখন কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে পরীক্ষা বাতিল হবে বা ফল প্রকাশ করা হবে না—এ ধরনের প্রচারকে তিনি সঠিক নয় বলে জানান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ফল প্রস্তুত হলেই তা প্রকাশ করা হবে।
গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্যপদের বিপরীতে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি।
পরীক্ষার আগে প্রশ্নফাঁসের গুঞ্জন ছড়ালেও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রশ্নফাঁসের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এদিকে পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে নকলের সহায়তার অভিযোগ ওঠে এবং বিভিন্ন জেলায় ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষা দেওয়ার সময় ২০৭ জন চাকরিপ্রার্থীকে আটক করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনার পর পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে চাকরিপ্রার্থীদের একটি অংশ আন্দোলনে নামলেও অধিদপ্তরের বক্তব্য অনুযায়ী, যাদের বিরুদ্ধে জালিয়াতির চেষ্টা প্রমাণ হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং এ কারণে পরীক্ষা বাতিলের সুযোগ নেই।



