সারাদেশ

লাখাইয়ে ধরা ছোঁয়ার বাইরে আ.লীগ নেতা মহিবুর রহমান

নিজস্ব প্রতিনিধি।

দীর্ঘ প্রায় ১৪বছর ধরে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এমপি আবু জাহির ছত্র ছায়ায় থেকে কোটি কোটি কালো টাকার মালিক বনে যাওয়া লাখাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মহিবুর রহমান উরপে মহিবুর মেন্বার এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। ফলে,লাখাই উপজেলার স্হানীয় বিএনপি সহ বিভিন্ন সংগঠনের রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। সেই সাথে মহিবুর রহমান ও তার সহযোগী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এনায়েত হোসেন, লাখাই উপজেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম সদস্য ও এমপি আবু জাহিরের ঘনিষ্ঠ সহচর সামছুল আলম উরপে সামসু মিয়া, সহ তাদের বাহিনীর সদস্যদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি উঠেছে।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, মহিবুর রহমান লাখাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি পদে থাকা অবস্থায় এমপি আবু জাহির থাকে লাখাই কুমারুন নয়াহাটি সেচ প্রকল্প ও গজারিয়া সেচ প্রকল্পের দ্বায়িত্ব দেন। দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই শুরু হয় জোরপূর্বক কৃষকদের নিকট থেকে বেশি ধান আদায় করা, আশেপাশের নদী-নালা খাল দিল দখল, সরকারি জায়গা দখল করে রাতারাতি হয়ে যায় শূন্য থেকে কোটিপতি । মহিবুর রহমান বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পান নি কেহ। কেউ প্রতিবাদ করলেই তাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে চলত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।

রুহিতনসী গ্রামের আলামিন মিয়া বলেন , আওয়ামী লীগ ক্ষমতা থাকাকালীন সময়ে আমাকে বাড়িতে ধরে নিয়ে একদিন তার বাড়িতে বেঁধে রেখেছে মার দূর করেছে আমি তার অন্যায় কাজে প্রতিবাদ করেছিলাম বিদায় তারপর আমাদের এলাকার একজন মুরুব্বী ও পুলিশের সহযোগিতায় তার বাড়ি থেকে আমাকে ছাড়িয়া না হয়।

স্বজন গ্রামের সামসুম মিয়া নামে এক ব্যক্তি মহিবুর রহমান এর অন্যায় কাজে প্রতিবাদ করায় সাবেক উপজেলা সদর টাউনশিপে প্রকাশ্য দিবালোকে তাকে বেঁধে মারপিট করে পরে তার হাতে দেশীয় অস্ত্র তুলে দিয়ে পুলিশে দিয়ে ভরিয়ে দেয়।

মহিবুর রহমান লাখাই রুহিতনসী গ্রামের কবরস্থানের খাল জায়গা দখল করে বেআইনিভাবে মাটি দিয়ে ভরাট করে ফসল ফলাচ্ছে।

এ ব্যাপারে মহিবুর রহমানের সাথে আলাপকালে সে বলেন কৃষকরা ইচ্ছা করে আমাকে বেশি দাম দিচ্ছে।

জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর কিছু দিন নিরবতা থাকলেও উপজেলা বিএনপির এক নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে রহস্যজনক ভাবে কুমারুন প্রকল্প আওয়ামী পন্থী বিএডিসি সহকারী প্রকৌশলী , হবিগঞ্জ ও উপজেলা সেচ কমিটি সদস্য সচিব রাকিবুল হক এর সাথে গোপন যোগাযোগের মাধ্যমে সুকৌশলে ৩৩ শতকে ১৯ কেজি দর টেন্ডার এনে কৃষকদের নিকট থেকে দুই থেকে আড়াই মণ ধান জোরপূর্বক আদায় করে। মৌখিকভাবে কৃষকরা বিআরটসির সহকারি প্রকল্প কর্মকর্তা রাকিবুল হক এর কাছে অভিযোগ করলে নোটিস দেয় তাতে কোন লাভ হয়নি, চলতি বছরেও মহিবুর রহমান পুনরায় সেচ প্রকল্পের জন্য আবেদন করেন।

হবিগঞ্জ বিএডিসি সহকারী প্রকৌশলী ও লাখাই উপজেলা সেচ কমিটি সদস্য সচিব রাকিবুল সরেজমিনে তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে মহিবুর রহমান এর সকল অপকর্মের ফিরিস্তি। মহিবুর রহমান টেন্ডার নিয়ে কৃষক দের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক সেচ প্রকল্প দখল করে অতিরিক্ত ধান আদায় করে আসছে

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button