

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ আফগান সরকারকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেছেন, আফগানিস্তানের বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় পাকিস্তান বাধ্য হয়ে আফগানিস্তানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করেছে। পরিস্থিতির চাপে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে, যা কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত ছিল না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ডন–এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
শেহবাজ শরিফ বলেন, এবার আফগানিস্তানকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা সত্যিকার অর্থে শান্তি চায় কি না। আফগান সরকারের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, যদি তারা পাকিস্তানের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্কের পথে না আসে, তাহলে অন্তত নিজেদের জনগণের প্রতি মানবিক আচরণ করা উচিত।
২০২৫ সালের অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে সীমান্তে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকেই পাকিস্তান–আফগান সীমান্তে বাণিজ্য কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সীমান্তে অপর্যাপ্ত ও দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে একাধিক দফা আলোচনাও ব্যর্থ হওয়ায় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আফগানিস্তান থেকে সন্ত্রাসীদের অনুপ্রবেশ ও হামলার বাস্তব প্রমাণ পাওয়ায় নিরাপত্তাজনিত এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন, পাকিস্তান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, তবে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নাগরিকদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
শেহবাজ শরিফ আরও বলেন, ২০২০ সালের দোহা চুক্তি অনুযায়ী আফগানিস্তানের দায়িত্ব ছিল সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণে রাখা, কিন্তু আফগান কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো কার্যকর অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
এদিকে, সোমবার আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের একটি রেস্তোরাঁয় শক্তিশালী বোমা হামলায় সাতজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একজন চীনা নাগরিক এবং বাকিরা আফগান বলে জানা গেছে। সন্ত্রাসী সংগঠন আইএসআইএল এক বিবৃতিতে আত্মঘাতী ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে।



