

যাত্রাবাড়ী থানার দীন ইসলাম বেপারী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কামরুল হাসান রিপনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। শুনানির সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন কামরুল হাসান।
এদিন তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। তার উপস্থিতিতেই রিমান্ড শুনানি শুরু হয়। আসামিপক্ষে আইনজীবী ওবায়দুল ইসলাম রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন, অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে।
শুনানির একপর্যায়ে বিচারকের অনুমতি নিয়ে কামরুল হাসান বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ এবং সরকার পতনের সময় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ওঠেনি। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন।
কামরুল আরও বলেন, তাকে পরিবারের সামনে মারধর করা হয়েছে এবং তিনি শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ। তার হৃদরোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এরপর তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন এবং এই বক্তব্য দিতে গিয়েই কাঠগড়ায় কান্নায় ভেঙে পড়েন।
শুনানি শেষে আদালত তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ভাটারা এলাকায় সাধারণ জনগণ তাকে আটক করে থানায় সোপর্দ করে। এ সময় উত্তেজিত জনতার ধাক্কাধাক্কিতে তিনি আহত হন। পরে তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। মঙ্গলবার তাকে যাত্রাবাড়ী থানার মামলায় আদালতে হাজির করা হয়। তখন তদন্ত কর্মকর্তা সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলেও আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়ে ২২ জানুয়ারি রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেন।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত ৫ আগস্ট দুপুর দেড়টার দিকে শাহবাগের উদ্দেশ্যে একটি মিছিল বের হলে যাত্রাবাড়ী এলাকায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের কর্মীরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় দীন ইসলাম বেপারী গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন এবং পরে মারা যান। এ ঘটনায় গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।



