

ময়মনসিংহের ভালুকা এলাকায় ‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগে গণপিটুনিতে নিহত দীপু চন্দ্র দাসের (দীপু দাস) পরিবারের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আর্থিক সহায়তা ও বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়। পোস্টে বলা হয়, গত ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় দীপু দাসকে কথিত অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে গণপিটুনি ও পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। তার মৃতদেহ গাছে ঝুলিয়ে রাখার ঘটনা তখন সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শে ২৩ ডিসেম্বর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সি আর আবরার নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি দীপু দাসের পরিবারের প্রতি সরকারের সহমর্মিতা জানান। যেহেতু দীপু পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন, তাই পরিবারকে একটি পাকাঘর নির্মাণ ও সার্বিক নিরাপত্তা প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
পরিবারের জন্য বাড়ি নির্মাণে ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে, যা জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ বাস্তবায়ন করবে। এছাড়া নগদ সহায়তা হিসেবে দীপু দাসের পিতা ও স্ত্রীকে ১০ লাখ টাকা করে প্রদান করা হবে এবং তার সন্তানের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য ৫ লাখ টাকার এফডিআর খোলা হবে। প্রকল্পটি ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হবে।
এ প্রসঙ্গে শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সি আর আবরার বলেন, “দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ড একটি নৃশংস অপরাধ, যার কোনো অজুহাত নেই। তার পরিবারের জন্য সরকারের সহায়তা জীবনের তুলনায় কিছুই নয়। রাষ্ট্র অবশ্যই সুবিচার নিশ্চিত করবে।” তিনি আরও বলেন, “সাম্প্রদায়িক উন্মাদনায় এই হত্যাকাণ্ড পুরো জাতির জন্য লজ্জাজনক। ন্যায়বিচারই আমাদের মুক্তি দিতে পারে। সমাজে সব ধর্ম, জাতি ও সম্প্রদায়ের মানুষের মতপ্রকাশের অধিকার রয়েছে, তবে আইন নিজের হাতে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”
এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে। শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, যারা দায়ী তাদের সবাইকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনা হবে।



