জাতীয়

মদ খেতেও নাকি লাইসেন্স লাগে, এটা কোন দেশের আইন

অনলাইন নিউজ ডেস্ক

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে মদ পানের লাইসেন্স ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান ইকবাল। তিনি মদের লাইসেন্স প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করে এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চান।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও মদ পানের লাইসেন্স ব্যবস্থার সমালোচনা করে মুজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, গাড়ি চালাতে লাইসেন্স প্রয়োজন, মোটরসাইকেল চালাতেও লাইসেন্স লাগে, এমনকি ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রেও লাইসেন্স লাগে। কিন্তু মদ পান করতেও লাইসেন্স নিতে হয়—এ ধরনের বিধান নিয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।

মদের দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গ টেনে তিনি রসাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, যারা এ সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়েছেন, তাদের জন্য অন্তত লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা যেতে পারে। একই সঙ্গে তিনি মদ ও অন্যান্য মাদককে এক করে না দেখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অনেক সময় এক বোতল মদ উদ্ধারের ঘটনাকেও কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হয়, যা কাম্য নয়।

বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে এই সংসদ সদস্য বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের কার্যক্রম এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সরকার একটি জনকল্যাণমুখী বাজেট উপস্থাপন করেছে। এ জন্য তিনি অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, অতীতে বাজেট ঘোষণার পরপরই প্রতিবাদ কর্মসূচি দেখা গেলেও এবার তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। তার মতে, এর কারণ হলো এই বাজেট মূলত শ্রমজীবী ও মধ্যবিত্ত মানুষের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন উপকরণ, হার্টের রিং, ব্যান্ডেজ এবং কিডনি রোগীদের চিকিৎসাসামগ্রীর মূল্য কমানো হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির বিষয়।

মুজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, জনগণের প্রয়োজনীয় অধিকাংশ পণ্যের দাম কমানো হলেও কেবল মদের দাম বাড়ানো হয়েছে। তিনি এ সিদ্ধান্তকে সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বাজেটের সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাস্তবতা বিবেচনা না করে অনেকেই অযৌক্তিক সমালোচনা করছেন। দেশের উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত অগ্রগতির জন্য বড় বাজেট প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, বাজেটের আকার ছোট হলে সড়ক, সেতু, কালভার্ট, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মতো বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।

আলোচনার একপর্যায়ে তিনি অর্থমন্ত্রীর প্রশংসা করে বলেন, চট্টগ্রামের সাগরপাড়ের মানুষ হিসেবে তার মন যেমন বড়, তেমনি বাজেটও সাগরের মতো বিস্তৃত। একই সঙ্গে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং নিরাপদ নৌ-যোগাযোগ নিশ্চিত করতে পুলিশের জন্য স্পিডবোট ও টহল যানবাহন বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button