

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা জুলাই অভ্যুত্থানের যোদ্ধাদের ভাতার চেয়ে অন্তত এক টাকা হলেও বেশি রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপি সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের অবদানকে তিনি সম্মান করেন, তবে মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদার সঙ্গে অন্য কোনো অবদানের তুলনা করা উচিত নয়।
ফজলুর রহমান বলেন, বর্তমান বাজেটে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ২০ হাজার টাকা এবং খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ২৫ হাজার টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। একই সময়ে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের জন্য ২০ হাজার টাকা এবং আহতদের জন্য বিভিন্ন হারে ভাতার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
তার ভাষায়, “জুলাইকে অসম্মান করছি না। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কাউকে তুলনা করা ঠিক হবে না। তাই অন্তত এক টাকা হলেও মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানো উচিত।”
বাজেট আলোচনায় তিনি শিক্ষা ও সংস্কৃতি খাতে বরাদ্দের ভারসাম্যের বিষয়ও তুলে ধরেন। শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে একে অপরের পরিপূরক উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংস্কৃতি চর্চা ছাড়া একটি সভ্য সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
এ সময় তিনি ধর্মীয় সহনশীলতা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের নিজ নিজ ধর্মীয় আচার পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা থাকা উচিত। পাশাপাশি মাজার ও সুফি ঐতিহ্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
ফজলুর রহমান হাওর অঞ্চলের উন্নয়নে পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি জানান। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাতিল হওয়া হাওরের উড়াল সড়ক প্রকল্প পুনর্বিবেচনার আহ্বানও জানান তিনি।
সংসদে বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কার্যকর ও অর্থবহ করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, গণতন্ত্রের স্বার্থে শক্তিশালী ও সক্রিয় রাজনৈতিক বিতর্ক প্রয়োজন।



