

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
- ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ‘গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা’ মন্তব্য করে আলোচনায় আসা পুলিশ কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসাইনের চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপকমিশনার ইকবাল হোসাইনের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছিল। তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমানে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত ইকবাল হোসাইন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। এ ঘটনায় বিভাগীয় তদন্ত শেষে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, অভিযোগের বিষয়ে ইকবাল হোসাইনকে প্রথমে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করে অভিযোগের তদন্ত করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাঁকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরবর্তী সময়ে প্রস্তাবিত শাস্তির বিষয়ে তাঁকে দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। তদন্ত প্রতিবেদন ও অভিযোগের গুরুত্ব পর্যালোচনা করে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়।
গুরুদণ্ড আরোপের বিষয়ে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পরামর্শকরণ) রেগুলেশনস, ১৯৭৯ অনুযায়ী সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শ চাওয়া হয়। কমিশন ইকবাল হোসাইনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা যেতে পারে বলে মত দেয়।
এরপর নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পাওয়ার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
যে বক্তব্যে আলোচনায় আসেন ইকবাল
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে ইকবাল হোসাইনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ৪৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর বিষয়ে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁকে কথা বলতে দেখা যায়।
ভিডিওতে ইকবাল হোসাইনকে বলতে শোনা যায়, ‘গুলি করে করে লাশ নামানো লাগছে স্যার। গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না।’
ভিডিওতে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ঘিরে পুলিশের মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ও স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাঙ্গীর আলমকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় ইকবাল হোসাইন মুঠোফোনে একটি ভিডিও দেখাচ্ছিলেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও মামলা
ইকবাল হোসাইনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় পুলিশ কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থী ইমাম হাসান তাইমকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা চলছে।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে কাছ থেকে গুলি চালিয়ে তাইমকে হত্যা করা হয়। তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাঁর বন্ধু রাহাতকেও গুলি করা হয় বলে রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইকবাল হোসাইনের বিরুদ্ধে হত্যার নির্দেশ, উসকানি ও প্ররোচনাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মামলায় ইকবাল হোসাইন অন্যতম আসামি। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচারিক কার্যক্রম ট্রাইব্যুনালে চলমান রয়েছে।



