

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জরুরি চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সিসিইউর একটি বেড সংরক্ষণ করা হয়েছিল—এমন একটি অফিস আদেশ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিএসএমএমইউর কার্ডিওলজি বিভাগের একটি অফিস আদেশের কপি প্রকাশ করেন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও চিকিৎসক ডা. আব্দুন নূর তুষার। এরপর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় আসে।
প্রকাশিত নথিটি ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবরের। এতে দেখা যায়, তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কার্ডিওলজি বিভাগের ‘সিসিইউ-২, বেড-১’-এ সার্বক্ষণিক ভিভিআইপি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়।
বিএসএমএমইউর কার্ডিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. চৌধুরী মেশকাত আহমেদের স্বাক্ষরিত ওই আদেশে অধ্যাপক ডা. মো. আবু সেলিমকে সভাপতি এবং ডা. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল জামালীকে সদস্যসচিব করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা ছিলেন ডা. খন্দকার কামরুজ্জামান, ডা. দীনে মুজাহীদ মো. ফারুরক ওসমানী এবং সিনিয়র স্টাফ নার্স রিপা রানী দেব।
নথিটি প্রকাশ করে ডা. তুষার অভিযোগ করেন, সিসিইউর গুরুত্বপূর্ণ ওই বেডটি দীর্ঘ সময় ধরে সাধারণ রোগীদের জন্য ব্যবহার করা হয়নি। তাঁর দাবি, ১৮ মাস ধরে বেডটি সংরক্ষিত থাকলে গড়ে এক সপ্তাহ করে একজন রোগী চিকিৎসা পেলেও অন্তত ৭৮ জন মুমূর্ষু রোগী সেখানে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পেতেন।
তিনি আরও দাবি করেন, বেডটি সংরক্ষিত রাখার কারণে অনেক জটিল রোগী চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকতে পারেন। এ বিষয়ে সিসিইউর রেজিস্টার পরীক্ষা করলে বেডটি কতদিন খালি ছিল, তা স্পষ্ট হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. তুষার তাঁর পোস্টে ভিভিআইপিদের জন্য দীর্ঘ সময় সিসিইউ বেড সংরক্ষণের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর ভাষ্য, এতে সাধারণ রোগীরা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি হাসপাতালও সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
এদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ড. ইউনূসের জন্য গঠিত বিশেষ মেডিকেল টিম বা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা ব্যবস্থা বহাল আছে কি না, তা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে প্রকাশিত অফিস আদেশ এবং ডা. তুষারের অভিযোগের বিষয়ে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। একইভাবে, ওই বেডটি পুরো ১৮ মাস অব্যবহৃত ছিল কি না বা এর কারণে কোনো রোগী চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন কি না—সেটিও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।



