ক্যাম্পাস

রাবিতে আম্মারের নেতৃত্বে ‘বাকশাল’ নামে গরু কেটে ‘জুলাই জিয়াফত’

অনলাইন নিউজ ডেস্ক

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে ‘বাকশাল’ নামে একটি গরু জবাই করে ‘জুলাই জিয়াফত’ আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে এ ভোজ অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গুগল ফর্মের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অংশগ্রহণের জন্য আবেদন নেওয়া হয়। এতে প্রায় ৭৫০ শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন বলে দাবি আয়োজকদের।

তবে আয়োজনটি রাকসুর ব্যানারে করা হলেও একাধিক রাকসু প্রতিনিধি এর বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন। রাকসুর বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্কর বলেন, ‘আজকের গরুভোজে রাকসুর পক্ষ থেকে কোরবানি হচ্ছে কি না—আমি তা জানি না। এতটুকু স্পষ্ট, এই আয়োজনের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

তিনি আরও বলেন, রাকসুর ব্যানারে কারা এ আয়োজন করছে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কোরবানির বিষয়টি বিবৃতি দিয়ে স্পষ্ট করার আহ্বান জানান তিনি।

অন্যদিকে, শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মেহেদী মারুফ আয়োজনের অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জানতে চান, এ আয়োজনের অর্থ রাকসুর কি না এবং রাকসুর অর্থ না হলে অর্থের উৎস কী।

এর আগে শুক্রবার রাতে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় সালাহউদ্দিন আম্মার ১৫ আগস্টের এ আয়োজনের ঘোষণা দেন। সেখানে তিনি বলেন, গরুটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘বাকশাল’ এবং সেটি কোরবানি করে ‘জুলাই জিয়াফত’ বা ‘জুলাইয়ের আপ্যায়ন’ করা হবে।

পরে মধ্যরাতে দেওয়া আরেকটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘১৫ আগস্ট রাতেই বাকশালরে শুয়াইয়া দিলাম।’

শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে শিক্ষার্থীরা ছোট ছোট দলে অপেক্ষা করছেন। রাকসু ভবনের ভেতরে খাবারের প্যাকেট প্রস্তুত রাখা হয় এবং শিক্ষার্থীদের বসার জন্য মসজিদের সামনের ঘাসের ওপর ত্রিপল বিছানো হয়। জোহরের নামাজ শেষে পৌনে ২টার দিকে শিক্ষার্থীরা সেখানে আসতে শুরু করেন। পরে দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে রাকসু ভবন থেকে ভ্যানে করে খাবার আনা হয়।

এ বিষয়ে সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘আজ বাকশাল পতনের ঐতিহাসিক দিন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি। সে জন্য গরুর নাম বাকশাল রাখা হয়েছে।’ তিনি দাবি করেন, শুরুতে রাকসুর পক্ষ থেকে প্রচারণা চালানো হলেও রাকসুর সব সদস্য এতে একমত ছিলেন না। পরে একজন ব্যক্তি গরুটি উপহার দেন। তাই এ আয়োজনের সঙ্গে রাকসুর আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা নেই।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button