জাতীয়

ডিসিইউতে অন্তর্ভুক্তি ও ১৩ দফা দাবিতে সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের আল্টিমেটাম

অনলাইন নিউজ ডেস্ক

ভোটের ফলাফল প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করে সাত কলেজের চলমান ব্যাচগুলোকে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে (ডিসিইউ) অন্তর্ভুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে ডিসিইউর আওতায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর ২টায় ঢাকা কলেজের শহীদ মিনারের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সংযুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নাঈভ হাওলাদার।

তিনি বলেন, আধুনিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে বর্তমান শিক্ষার্থীদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। এ বিষয়ে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে তারা আশা করছেন।

নাঈভ হাওলাদার আরও বলেন, ডিসিইউর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলামকে নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। তার বক্তব্যের ব্যাখ্যাও ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। উচ্চশিক্ষাঙ্গনের শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবীরা তার বক্তব্যের মর্ম বুঝতে পেরেছেন এবং অনেকে সংহতি জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীরাও তার বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছেন না।

তিনি বলেন, ‘উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে কোনো চক্রান্ত আমরা মেনে নেব না। সব ষড়যন্ত্র আমরা প্রতিহত করব।’

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে অ্যাকাডেমিক অধিকার, মানসম্মত শিক্ষা ও আধুনিক উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে ১৩ দফা দাবি তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা।

তাদের দাবিগুলো হলো—

১. সাত কলেজের সমন্বয়ে নবপ্রতিষ্ঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় উপযোগী শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

২. ডিসিইউর আওতায় ইতোমধ্যে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। গণস্বাক্ষরের মাধ্যমে পাওয়া ফল আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করতে হবে। ফল প্রকাশের পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চলমান ব্যাচগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

৩. ডিজিটাল লার্নিং রিসোর্স, ই-জার্নাল, ই-বুক ও বিভিন্ন ডেটাবেসে সব শিক্ষার্থীর সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

৪. বিষয়ভিত্তিক প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় পাঠদান এবং শিক্ষা উপকরণ ব্যবহারের সুযোগ রাখতে হবে।

৫. বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর জন্য আধুনিক ল্যাবরেটরি সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

৬. বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পর্যাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থা চালু ও সম্প্রসারণ করতে হবে। দ্রুত প্রতিটি ক্যাম্পাসের জন্য একটি করে বাস বরাদ্দ দিতে হবে।

৭. ঢাকার বাইরের ও আবাসনহীন শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত ও নিরাপদ আবাসন ব্যবস্থা করতে হবে।

৮. গবেষণাবান্ধব পরিবেশ ও অবকাঠামো গড়ে তুলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের গবেষণায় অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।

৯. শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের গবেষণার জন্য নিয়মিত ও পর্যাপ্ত গবেষণা তহবিল চালু করতে হবে।

১০. বাস্তবসম্মত অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুসরণ করে সময়মতো ক্লাস, পরীক্ষা, ফল প্রকাশ ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।

১১. ধারাবাহিক মূল্যায়ন ও মানোন্নয়নের লক্ষ্যে কার্যকর ডুয়াল পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করতে হবে এবং পরীক্ষার কাঠামো স্পষ্ট করতে হবে।

১২. ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই সাতটি ক্যাম্পাসে যুগোপযোগী নতুন বিষয় সংযোজন করতে হবে।

১৩. সাতটি ক্যাম্পাসের পারস্পরিক দূরত্ব বিবেচনায় রাজধানীর উপযুক্ত স্থানে দ্রুত একটি টিএসসি (ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র) নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। ক্যাম্পাসের পাশাপাশি টিএসসিকেন্দ্রিক খেলাধুলা, বিতর্ক, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, ক্লাব, স্বেচ্ছাসেবাসহ বিভিন্ন সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button