জাতীয়

ডা. আসাদুর রহমানের ওপর হামলা, মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ২

চিকিৎসক অধ্যাপক আসাদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ওয়ারী বিভাগ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সানি সাহা (৩৮) ও ফাতিন ইসরাক লাবিব (২০)।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম।

ডিবি জানায়, শনিবার রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়ার গোয়ালপাড়া-কদমতলী এলাকা ও খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ-২ এলাকায় অভিযান চালিয়ে সানি সাহা ও ফাতিন ইসরাক লাবিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যেই অধ্যাপক আসাদুর রহমানের ওপর হামলা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, গত ১৭ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখা শেষে বাসায় ফিরছিলেন অধ্যাপক আসাদুর রহমান। রাত পৌনে ১১টার দিকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার সময় জীবন ওরফে আদিলসহ কয়েকজন তার পথরোধ করেন। কারণ জানতে চাইলে তাকে সিএনজি থেকে টেনে নামিয়ে মারধর করা হয়।

একপর্যায়ে জীবন ওরফে আদিল অধ্যাপক আসাদুর রহমানের ডান চোখে আঘাত করেন। অন্যরা তার মাথা, দুই চোখের ওপরসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এ সময় তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে হুমকিও দেওয়া হয়।

পরে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দিলে পল্টন মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জীবন ওরফে আদিলকে আটক করে। তবে অন্যরা পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় অধ্যাপক আসাদুর রহমান বাদী হয়ে জীবন ওরফে আদিলসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে পল্টন মডেল থানায় মামলা করেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার কয়েক দিন আগে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে তার কাছে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার চাঁদা দাবি করা হয়েছিল।

মামলার তদন্তে হামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে ডিবি। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাত ১২টা ২০ মিনিটে যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়ার গোয়ালপাড়া-কদমতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে সানি সাহাকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই রাতে আড়াইটার দিকে খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ-২ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফাতিন ইসরাক লাবিবকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে সানি সাহা জানিয়েছেন, ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ওয়ার্ক পারমিটে সিঙ্গাপুরের একটি ইন্টেরিয়র ডিজাইন প্রতিষ্ঠানে প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে কাজ করার সময় জান্নাত আলমগীর হোসেন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ওই ব্যক্তি তাকে মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের প্রস্তাব দেন। পরে বিভিন্ন সময়ে ওই ব্যবসায় পাঁচ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হন বলে ডিবিকে জানিয়েছেন সানি।

ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টে দেশে ফেরার পর ভাটারা থানা এলাকায় জান্নাত আলমগীর হোসেনের সঙ্গে সানি সাহার দেখা হয়। তখন সমাজের উচ্চবিত্ত ব্যক্তিদের বাসার ঠিকানা, গাড়ির নম্বর, পেশা, চলাফেরা ও আর্থিক বিষয়সহ ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়।

ডিবির দাবি, এসব তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি অধ্যাপক এ কে এম আমিনুল হক ও অধ্যাপক আসাদুর রহমানকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ আদায়ের পরিকল্পনা করা হয়। পরে অধ্যাপক আসাদুর রহমানের ওপর হামলার জন্য লোক সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয় ফাতিন ইসরাক লাবিবকে।

জিজ্ঞাসাবাদে লাবিব জানিয়েছেন, ঘটনার প্রায় আড়াই মাস আগে ফুড ডেলিভারির মাধ্যমে সানি সাহার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তাদের সরাসরি সাক্ষাৎ হয়। এরপর অধ্যাপক আসাদুর রহমানের ওপর হামলার জন্য আবু বকর (১৮), রাতুল (১৯), ইবান (২২), জীবন (২১) ও সাব্বির (১৮)—এই পাঁচজনকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে কাজে যুক্ত করার প্রস্তাব দেন তিনি।

ডিবি জানায়, পরে ওই ব্যক্তিদের নিয়ে অধ্যাপক আসাদুর রহমানের ওপর হামলা করা হয়। এ ঘটনায় ইবান ও জীবন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।

গ্রেপ্তার সানি সাহা ও ফাতিন ইসরাক লাবিবের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে ভাটারা থানায় পৃথক মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি।

আহত অধ্যাপক আসাদুর রহমান বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button