রাজনীতি

নুরকে অতীতের ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়ে বিচার করা ঠিক নয়: রাশেদ খান

অনলাইন নিউজ ডেস্ক

গণ-অধিকার পরিষদের সাবেক সভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরকে তার অতীত ছাত্রলীগের রাজনীতি কিংবা শেখ হাসিনাকে ‘মা’ ডাকার বক্তব্যের ভিত্তিতে বিচার করা ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।

সম্প্রতি একটি টেলিভিশন টকশোতে দেওয়া বক্তব্যে রাশেদ খান বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় হওয়ার পর নুর আওয়ামী লীগের অবস্থানের বিরোধিতা করেছেন। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও তিনি সাহসী ভূমিকা রেখেছেন।

রাশেদ খান বলেন, নুরুল হক নুর একসময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে তিনি সেই রাজনীতি থেকে সরে এসে কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ধীরে ধীরে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের বিরোধী অবস্থানে চলে আসেন।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামার পর নুর আওয়ামী লীগের পক্ষে কখনো অবস্থান নিয়েছেন কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। বরং আওয়ামী লীগকে ‘জালিম’ ও ‘মুনাফেক’ দলসহ বিভিন্ন নামে সমালোচনা করায় নুরকে আদালত পর্যন্ত যেতে হয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নুরের ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে রাশেদ খান বলেন, ওই সময়ে দেশের সবচেয়ে সাহসী ছাত্র বা তরুণ নেতাদের মধ্যে নুরুল হক নুর অন্যতম ছিলেন। একমাত্র তরুণ নেতা হিসেবে তিনি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন এবং তার হাতে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারের পরও নুর বলেছিলেন, শেখ হাসিনার ৯০ শতাংশ পতন হয়ে গেছে, এখন ১০ শতাংশ ধাক্কা দিতে হবে। এমন ভূমিকার পর তাকে অতীতের ছাত্রলীগের রাজনীতি কিংবা শেখ হাসিনাকে ‘মা’ ডাকার বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে বিচার করা উচিত নয়।

রাশেদ খান বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ বা সম্পর্ক থাকলেই কাউকে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মেরুকরণের মধ্যে ফেলা যায় না। ছাত্রজীবনের শুরুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও পরবর্তী সময়ে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে নুর আওয়ামী লীগবিরোধী অবস্থানে চলে আসেন।

আলোচনায় জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রসঙ্গও তোলেন রাশেদ খান। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন সময়ে দুই দলের মধ্যে রাজনৈতিক যোগাযোগ ও সখ্যতার অভিযোগ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে বক্তা আমির হামজার বক্তব্যের উদাহরণও দেন তিনি।

রাশেদ খান বলেন, আমির হামজা একসময় ওয়াজের সময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার পারিবারিক সম্পর্কের কথা বলতেন। এমনকি শেখ হাসিনার নীতি বাস্তবায়ন না করলে জাহান্নামে যেতে হবে—এমন বক্তব্যও তিনি দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন রাশেদ খান।

জামায়াতের রাজনীতি নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, বিএনপি ও জামায়াতকে একইভাবে বিচার করার সুযোগ নেই। বিএনপি নেতৃত্বের জায়গায় থেকেছে এবং জামায়াতের আদর্শে বিলীন হয়ে যায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে রাশেদ খান দাবি করেন, বিএনপির যেসব নেতা-কর্মী দেশে ছিলেন, তারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। তাদের অনেকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির হয়ে নির্বাচিত অনেকেও আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত ছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে জামায়াতের সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিদের প্রসঙ্গে রাশেদ খান প্রশ্ন তোলেন, ১৬ বছরে তাদের মধ্যে কেউ রাজপথে নেমেছেন কি না। তবে আলোচনায় উপস্থিত অপর পক্ষ থেকে বলা হয়, জামায়াতের আমিরসহ দলের অনেক নেতাও বিভিন্ন সময়ে জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন।

এর জবাবে রাশেদ খান বলেন, বিএনপির তুলনায় জামায়াতের নেতাদের গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের সংখ্যা অনেক কম। তার ভাষ্য, বিএনপির নেতা-কর্মীদের তুলনায় জামায়াতের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা আনুমানিক ১০ শতাংশের মতো।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের মার্চে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসু নির্বাচনে ভিপি হওয়ার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নুরুল হক নুর। সে সময় তিনি বলেছিলেন, আড়াই বছর বয়সে তিনি তার মাকে হারিয়েছেন এবং শেখ হাসিনার মধ্যে তিনি মায়ের ছায়া ও প্রতিচ্ছবি খুঁজে পান। ওই বক্তব্য সে সময় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button