

দক্ষিণ চীন সাগর থেকে একটি বিমানবাহী রণতরী ও তার স্ট্রাইক গ্রুপ মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নির্দেশ পাওয়ার পরই রণতরীটি সংশ্লিষ্ট যুদ্ধজাহাজসহ মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে আল জাজিরা এ খবর জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পেন্টাগনের নির্দেশে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী ও তার সঙ্গে থাকা যুদ্ধজাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্যের পথে রওনা হয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য কিংবা ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন নেই।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টির কৌশলের অংশ হিসেবে গত অক্টোবরে ট্রাম্প প্রশাসন ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড বিমানবাহী রণতরীকে ভূমধ্যসাগর থেকে ক্যারিবীয় অঞ্চলে পাঠিয়েছিল। এর ফলে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য উত্তেজনার সময় মধ্যপ্রাচ্যে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহারের মতো কোনো মার্কিন বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ সেখানে উপস্থিত ছিল না, যা আগের সংকটগুলোতে দেখা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক মার্কিন নৌবাহিনী কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে—বর্তমানে ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে, আর মধ্যপ্রাচ্যে রয়েছে মাত্র ছয়টি।
এদিকে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সাময়িকভাবে আকাশসীমা বন্ধ রাখার পর তা পুনরায় খুলে দিয়েছে ইরান। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে এবং তেহরানের দিকে বিমান প্রবেশ করতে দেখা যাচ্ছে। এ তথ্য জানিয়েছে টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
অনলাইন ফ্লাইট ট্র্যাকিং সেবা ফ্লাইটরাডার২৪ বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছে, ইরানের আকাশসীমায় চলাচলসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার নোটিশ (নোটাম) এর মেয়াদ শেষ হয়েছে। এর পরপরই একাধিক বিমান দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করে।
এর আগে নিরাপত্তাজনিত কারণে ইরান সাময়িকভাবে সব ধরনের বিমান চলাচল বন্ধ রেখেছিল। সে সময় কেবল বেসামরিক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আগাম অনুমতি পাওয়া কিছু নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সীমিত আকারে চলাচলের সুযোগ পায়।
প্রাথমিক ঘোষণায় জানানো হয়েছিল, ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তেহরানের আকাশসীমা বন্ধ থাকবে এবং ওই সময়ে শুধুমাত্র অনুমোদিত ফ্লাইটগুলোই চলাচল করতে পারবে।



