

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
জামালপুরে বিচারক দম্পতির ভাড়া বাসায় চুরির ঘটনায় সাবেক দুই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুইজন গৃহকর্মীও রয়েছেন। শুক্রবার (৩ জুলাই) তাদের আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিচারক আহমাদুল কবির সাকিল ও বিচারক নুসরাত জেরিন জেনী প্রায় সাত মাস ধরে জামালপুর শহরের আমলাপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। তারা যথাক্রমে মেলান্দহ ও দেওয়ানগঞ্জ সিভিল জজ আদালতে দায়িত্ব পালন করছেন।
গত ৩০ জুন বিকেলে বিচারক আহমাদুল কবির সাকিল তাঁর স্ত্রীকে জামথল ঘাটে পৌঁছে দিতে বাসা থেকে বের হন। রাত ৮টার দিকে ফিরে এসে তিনি মূল দরজা খুলতে না পেরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে দেখা যায়, দুর্বৃত্তরা শয়নকক্ষের জানালার গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে আলমারির ড্রয়ার ভেঙে নগদ এক লাখ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, হীরার আংটিসহ মোট ১৯ লাখ ১৭ হাজার ৯৮৩ টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে।
ঘটনার পরদিন জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা এ. কে. এম. ছরওয়ার জাহান সিদ্দিকী বাদী হয়ে জামালপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
তদন্তের একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার রাতে একই ভবনের অপর একটি বাসার গৃহকর্মী নিলুফাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিচারক দম্পতির বাসার গৃহকর্মী হাওয়া বেগমকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন—মেলান্দহ উপজেলার চর পলিশা গ্রামের নিলুফা (৩২), সদর উপজেলার তিতপল্লা সরদারপাড়া গ্রামের হাওয়া বেগম (৩০), শহরের আমলাপাড়া এলাকার চাঁন মিয়া ওরফে কালাচাঁন (৫০), গোলাপবাগ এলাকার সুমন মিয়া (৩৯) এবং কলেজ রোড এলাকার নাজমুল ইবনে হোসেন ওরফে বিপ্লব (৩৯)।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার সুমন মিয়া জামালপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সম্পাদক এবং নাজমুল ইবনে হোসেন ওরফে বিপ্লব সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
জামালপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা চুরির ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। চুরির মূল পরিকল্পনা উদ্ঘাটন, চোরাই মালামাল উদ্ধার এবং পলাতক সদস্যদের শনাক্ত করতে চারজনের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া গৃহকর্মী নিলুফা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
এদিকে জামালপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নুরুল মোমেন কাউসার বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবক দলের কোনো সদস্য বা সমর্থক নন এবং তাদের সঙ্গে দলের কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই।
একই কথা জানান জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মঞ্জুরুল করিম সুমন। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া দুজন অতীতের কমিটিতে দায়িত্বে ছিলেন, তবে বর্তমানে তারা দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।



