

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় ন্যায্যমূল্যে বিক্রির জন্য বরাদ্দ দেওয়া ওএমএসের আটা আত্মসাতের অভিযোগে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকসহ তিন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়। একই সঙ্গে অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে খাদ্য বিভাগ।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন—কালাই উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হুমায়ূন আহম্মেদ, উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক মো. মাহমুদুন্নবী সরকার এবং সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক আব্দুল মোমিন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীর নির্বাচনী এলাকার অন্তর্ভুক্ত আক্কেলপুর, কালাই ও ক্ষেতলাল উপজেলায় বিশেষ ওএমএস কর্মসূচির আওতায় প্রতিদিন দুই টন চাল ও দুই টন আটা বিক্রির জন্য বরাদ্দ ছিল। এ কর্মসূচির আওতায় একজন সুবিধাভোগী সর্বোচ্চ পাঁচ কেজি চাল ও পাঁচ কেজি আটা কিনতে পারেন। প্রতি কেজি আটার মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২৪ টাকা এবং চালের মূল্য ৩০ টাকা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন ৪০ বস্তা আটা বরাদ্দ থাকলেও বিক্রয়কেন্দ্রে মাত্র ২০ বস্তা আটা রাখা হতো। বাকি ২০ বস্তা আটার কোনো হিসাব পাওয়া যেত না। ফলে অনেক সুবিধাভোগী চাল পেলেও আটা না নিয়েই ফিরে যেতে বাধ্য হতেন।
গত ২৭ জুলাই সকালে বিক্রয়কেন্দ্রে গিয়ে স্থানীয়রা বরাদ্দের তুলনায় কম আটা দেখতে পেয়ে প্রতিবাদ জানান। এ ঘটনায় কয়েকজন সাংবাদিক উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ূন আহম্মেদের বক্তব্য নিতে গেলে তার সঙ্গে কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “এত কথা কওয়া লাগবে ক্যা… সবাই মিলেমিশে খাই… যা হবে ভাই-ব্রাদার মানুষ, সবাই মিলে মিশে খামু।” ভিডিওটির সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আটা সরবরাহের দায়িত্বে থাকা সাদিয়া ফ্লাওয়ার মিলসের ব্যবস্থাপক জহুরুল ইসলাম দাবি করেছেন, তারা নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন ৪০ বস্তা আটা সরবরাহ করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্রির আগের দিন মিল থেকে আটা বিক্রয়কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয় এবং কালাই উপজেলা সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক আব্দুল মোমিন ৪০ বস্তা আটা গ্রহণ করে প্রাপ্তিস্বীকারপত্রে স্বাক্ষর করেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বৃহস্পতিবার উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ূন আহম্মেদের কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
জয়পুরহাট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাকিল আহমেদ জানান, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট তিন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে কালাই উপজেলা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



