

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘এই জাতি এখন সবচেয়ে বড় সংকটে আছে। এই সংকট থেকে জাতিকে উত্তরণ করতেই হবে। আমাদের মধ্যে বহু ট্যালেন্ট আছেন। বাট মোস্ট অব দেম আর ইভিল ট্যালেন্টস।’
তিনি বলেন, আল্লাহর দেওয়া মেধার এই নিয়ামত মানবতা, সৃষ্টি ও কল্যাণের কাজে না লাগিয়ে স্বার্থপর ও সংকীর্ণমনা মানুষ বৈধ-অবৈধ সব পথে নিজের লাভ খুঁজে বেড়ায়।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে আয়োজিত ‘রোড টু সিরাহ’ জাতীয় সিরাত পাঠ প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর পুরস্কার প্রদান ও সাংস্কৃতিক সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার রাস্তা একটাই। আর তা হলো নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পদাঙ্ক অনুসরণ করা—পায়ে পায়ে, অক্ষরে অক্ষরে তাঁর অনুসরণ করে চলা।
মহানবী (সা.)-এর জীবনকে অনুসরণীয় আদর্শ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন শিশু যদি প্রশ্ন করে, ‘আমি কাকে অনুসরণ করব?’—তার উত্তর হলো, মা আমিনা ও হালিমাতুস সাদিয়া (রা.)-এর শিশুপুত্র মুহাম্মাদ (সা.)।
তিনি বলেন, অবুঝ বয়সেও তিনি দুধ ভাইয়ের হক নষ্ট করেননি, কাউকে কষ্ট দেননি, মুখ দিয়ে অশ্লীল কথা বলেননি এবং কারও অধিকার নষ্ট করেননি।
কিশোর বয়সের উদাহরণ টেনে জামায়াতের আমির বলেন, একজন কিশোর যদি জানতে চায়, ‘আমি কাকে অনুসরণ করব?’—তাহলে মক্কার শান্ত, সৌম্য, বুদ্ধিদীপ্ত ও দায়িত্বশীল কিশোর মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনই তার সামনে উদাহরণ হিসেবে আসবে।
কাবাঘর পুনর্নির্মাণের পর হাজরে আসওয়াদ স্থাপন নিয়ে মক্কার চার গোত্রের মধ্যে বিরোধের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সেখানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই সংকটের ইনসাফপূর্ণ ও নিখুঁত সমাধান দিয়েছিলেন কিশোর মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ (সা.)।
তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা শৈশব, কৈশোর ও যৌবন—জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে মহানবী (সা.)-কে উত্তম আখলাকের মাধ্যমে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছিলেন।
মহানবী (সা.)-এর জীবনের প্রতিকূলতার কথা উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, জন্মগতভাবেই তিনি এতিম ছিলেন। তাঁর জন্মের আগেই পিতা ইন্তেকাল করেন। ছয় বছর বয়সে তিনি মাকে এবং আট বছর বয়সে দাদাকে হারান। এভাবে জীবনে একের পর এক ধাক্কা এলেও তিনি আদর্শ জীবন গড়ে তুলেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, একজন ব্যবসায়ী, দার্শনিক, চিন্তাবিদ, সমন্বয়ক কিংবা প্রধান বিচারপতি—জীবনের যে ক্ষেত্রেই প্রশ্ন আসুক, ‘আমি কাকে অনুসরণ করব?’—নিঃসন্দেহে তার উত্তর মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা.)।
প্রতিযোগীদের অভিনন্দন জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, এই চর্চার মাধ্যমে প্রতিযোগীদের হৃদয় আলোকিত হয়েছে এবং তারা রাসুলে করীম (সা.) সম্পর্কে জানার সুযোগ পেয়েছে। মানবজাতির জন্য তিনি কত বড় নিয়ামত এবং বিশ্ববাসীর জন্য কত নিখুঁত আদর্শ, তারা তা উপলব্ধি করার সুযোগ পেয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, পুরস্কার লাভের আশায় তারা এটা করেনি। তারা হেদায়েতের পুরস্কার পাওয়ার আশায় এটা করেছে।’
হেদায়েতের গুরুত্ব তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, হেদায়েত মানে সঠিক পথের প্রদর্শন। মানুষ অনেক সময় নিজের জন্য দোয়া না করে রাগ করে অন্যের জন্য হেদায়েতের দোয়া করে। অথচ এত বড় একটি দোয়াকেও মানুষ বদদোয়া মনে করে। হেদায়েত কামনা হলো আল্লাহর দরবারে সঠিক পথ পাওয়ার জন্য দোয়া করা।



