রাজনীতি

জ্বালানি সংকট সমাধানে বিরোধী দলের প্রস্তাব গ্রহণ করেনি সরকার

অনলাইন নিউজ ডেস্ক

জ্বালানি সংকট সমাধানে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রস্তাব সরকার গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের শিল্পখাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সংকটের ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও সরকার এর বিকল্প সমাধান বের করতে পারেনি।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে বগুড়া সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারকে সহযোগিতা করতে সংসদে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি টিম গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। দেশে ও বিদেশে এ খাতে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত ওই টিম সরকারকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত ছিল। তবে সরকার সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি।

তিনি বলেন, সরকার গঠনের পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় জ্বালানির সরবরাহব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে ছয় মাস চলে গেছে। একটি দেশের জন্য ছয় মাস কম সময় নয়। এই সময়ের মধ্যে সংকট মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন ছিল।

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা বারবার সহযোগিতা করতে চেয়েছি। সর্বশেষ ৭ সেপ্টেম্বর বিরোধী দল ও আমার পক্ষ থেকে সরকারকে জানানো হয়েছে, দেশে-বিদেশে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আমাদের একটি টিম রয়েছে। সুযোগ দিলে আমরা সেই টিম সরকারকে দিতে চাই। দেশকে ভালোবাসি বলেই এই প্রস্তাব দিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, সরকার সময়মতো বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করলে জ্বালানি সংকট এতটা জটিল আকার ধারণ করত না। বিরোধী দল সহযোগিতার চেষ্টা করলেও তাদের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি। এ কারণে জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলগুলো লংমার্চের মতো কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছে।

বিদ্যুৎ সংকট নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, শুরুতে সরকার বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়টি অস্বীকার করলেও বর্তমানে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট দেশের অর্থনীতি ও শিল্পখাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে ছিলেন। কিন্তু সরকার ক্ষমতায় আসার পর জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে। এর মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বগুড়ার উন্নয়ন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বগুড়া উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। একসময় জেলাটিকে ‘মিনি শিল্পনগরী’ বলা হতো। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও বগুড়ায় প্রত্যাশিত শিল্পায়ন হয়নি।

তিনি বলেন, বগুড়া শিক্ষা নগরী হিসেবে পরিচিত হলেও সে অনুযায়ী জেলার উন্নয়ন হয়নি। বিভিন্ন সড়কের বেহাল দশাও দীর্ঘদিনের। শিল্প, শিক্ষা ও যোগাযোগ—কোনো ক্ষেত্রেই বগুড়া তার সম্ভাবনার যথাযথ সুফল পাচ্ছে না।

মতবিনিময় সভায় স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button