

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, গ্যাসের দাম এক টাকাও বাড়ানো হলে সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না। তিনি অভিযোগ করেন, কৃত্রিম গ্যাস সংকট সৃষ্টি করে সরকার দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে এবং জনগণের সঙ্গে করা বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেনি।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয় অভিমুখে ১১ দলীয় জোটের কর্মসূচিতে পুলিশি বাধার পর উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “আজ আমরা সরকারকে হুঁশিয়ারি দিতে এসেছি। গ্যাসের দাম যদি এক টাকাও বাড়ানো হয়, তাহলে এই সরকার চালাতে পারবেন না। আপনারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বিদ্যুতের দাম বাড়াবেন না, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবেন এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখবেন। কিন্তু বাস্তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বেড়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকার গণভোটে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করেনি। তার দাবি, গণরায়ের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও এখনো পূরণ হয়নি।
এনসিপির এই নেতা অভিযোগ করেন, সরকার সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগসাজশ করে কৃত্রিম গ্যাস সংকট সৃষ্টি করেছে এবং গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ না করেই দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, দেশে প্রত্যাশিত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে এবং সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আগের তুলনায় বেশি চাঁদা আদায়ের অভিযোগও তোলেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিরোধী মতের শিক্ষার্থী ও নির্বাচিত ছাত্র সংসদের প্রতিনিধিদের ওপর হামলা এবং ক্যাম্পাস দখলের চেষ্টার অভিযোগও করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে সচিবালয়ের পাশাপাশি জাতীয় সংসদ ভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখেও কর্মসূচি দেওয়া হবে।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, গণভোটের ফল কার্যকর করা, গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগ ও দাবিগুলো নাহিদ ইসলামের বক্তব্য। এ বিষয়ে সরকারের বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা সংযুক্ত করলে প্রতিবেদনটি আরও ভারসাম্যপূর্ণ হবে।



