

ভোলা-২ আসনের দৌলতখান উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণা ঘিরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার জন্য দুই দলই একে অপরকে দায়ী করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মেদুয়া ইউনিয়নের মুন্সিরহাট বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ, নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ড ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে নির্বাচনী গণসংযোগ ও প্রচারণা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় উভয় দলের সমর্থকরা লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
দৌলতখান উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. হাসান তারেক হাওলাদার অভিযোগ করেন, জামায়াতের নেতাকর্মীরা গণসংযোগে বের হলে বিএনপির স্থানীয় কয়েকজন নেতা-কর্মী লাঠিসোঁটা ও রড নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। এতে তাদের অন্তত ২০ জন আহত হন। গুরুতর আহত ৪–৫ জনকে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, উপজেলার আরও কয়েকটি ইউনিয়নেও জামায়াতের প্রচারণায় বাধা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে দৌলতখান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান সাজু বলেন, জামায়াতের প্রার্থীর আগমনকে কেন্দ্র করে তাদের নেতাকর্মীরা লাঠিতে পতাকা বেঁধে মিছিল বের করেন। আচরণবিধি মেনে প্রচারণা চালানোর অনুরোধ করলে জামায়াত সমর্থকরা বিএনপির কর্মীদের ওপর হামলা করেন। এতে বিএনপির ৮–১০ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর কয়েকজনকে ভোলা জেনারেল হাসপাতাল ও দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
দৌলতখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ খাইরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি থাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা রাখা হয়েছে। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি; অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



