কুমিল্লার কসাইয়ের অনৈতিক প্রস্তাব, প্রতিবাদ করায় সিলেটে বৃদ্ধ দম্পতিসহ ৩ জনকে কুপিয়ে হ/ত্যা!


সিলেট নগরে এক বাসায় বৃদ্ধ দম্পতিসহ তিনজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাবুল মিয়া (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি পেশায় কসাই এবং মাঝেমধ্যে রংমিস্ত্রির কাজ করতেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, নিহত তিনজন হলেন ৯০ বছর বয়সী এম আব্দুস সাত্তার, তাঁর ৭২ বছর বয়সী স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং ওই বাসার গৃহকর্মী তাহমিনা।
অভিযোগ অনুযায়ী, তাহমিনার সঙ্গে বাবুলের প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিনের পরিচয় ছিল। ঘটনার দিন সকালে বাবুল ওই বাসায় গিয়ে দরজায় নক করেন। পরিচিত হওয়ায় তাহমিনা দরজা খুলে দিলে তিনি ভেতরে প্রবেশ করেন।
এরপর বাবুল তাহমিনাকে অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাহমিনা এতে প্রতিবাদ করলে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বাবুল ধারালো ছুরি দিয়ে তাহমিনার ওপর হামলা চালান বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে।
তাহমিনার চিৎকার শুনে তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম। তাকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে স্ত্রীর চিৎকার শুনে ৯০ বছর বয়সী এম আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে তাকেও হামলার শিকার হতে হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার পর তিনজনকে হত্যার অভিযোগে বাবুল ঘরের মূল দরজা ভেতর থেকে তালাবদ্ধ করে পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যান।
দীর্ঘ সময় বাড়ির দরজা বন্ধ থাকায় প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ঘটনার পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় একই দিন বিকেল ৫টার দিকে বাবুল মিয়াকে আটক করা হয়।
আটকের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।



