

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদীতে সিআইডির পরিচয় দিয়ে এক তরুণীকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে তাঁর সাবেক স্বামীসহ সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে সিআইডি লেখা চারটি ইউনিফর্ম, তিনটি ওয়াকিটকি ও একটি নোহা গাড়ি জব্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে আটক সাতজনকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আটকরা হলেন—লক্ষ্মীপুর পৌরসভার আটিয়াতলী এলাকার শহীদুল ইসলাম শুভ চৌধুরী (৩২), চররুহিতা এলাকার রুবেল হোসেন (২৯), রাজশাহীর জাহাঙ্গীর আলম (২৮), বগুড়ার আবুল কাশেম সোহেল (৩৮), চট্টগ্রামের শাহাদাত হক খান চৌধুরী (২৯), ফেনীর নাদির (২৯) ও ঢাকার শরীফ মিয়া (৫৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৩ সালে পারিবারিকভাবে ওই তরুণীর সঙ্গে শুভ চৌধুরীর বিয়ে হয়। পরে দাম্পত্য কলহের জেরে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। বিচ্ছেদের পর থেকেই শুভ তাঁর সাবেক স্ত্রীকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার গভীর রাতে কয়েকজন ব্যক্তি সিআইডির ইউনিফর্ম পরে ও হাতে ওয়াকিটকি নিয়ে মাইজদীর বসুন্ধরা কলোনিতে ওই তরুণীর বাসায় যান। তাঁরা নিজেদের পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে একটি মামলার তদন্তের কথা বলে দরজা খুলতে বলেন। একপর্যায়ে তাঁরা তরুণীর বাবা আতাউর রহমানকে ধাক্কা দিয়ে জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ।
পরে শুভ চৌধুরী তাঁর সাবেক স্ত্রীর কক্ষে গিয়ে তাঁকে জোর করে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। বিষয়টি টের পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বাসার মূল ফটক বাইরে থেকে বন্ধ করে দেন এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় সাতজনকে আটক করে।
ভুক্তভোগীর বাবা আতাউর রহমান বলেন, সিআইডির ভুয়া পরিচয় দিয়ে জ্যাকেট ও ওয়াকিটকি নিয়ে অভিযুক্তরা জোর করে তাঁদের বাসায় ঢোকেন। একপর্যায়ে তাঁর মেয়েকে টানাহেঁচড়া করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে মেয়ের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাঁদের আটকে রাখেন। পরে ৯৯৯-এ খবর দিলে পুলিশ এসে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, আতাউর রহমান বাদী হয়ে সাতজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। পরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, ঘটনার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য কিংবা সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



