

ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দ্রুত প্রত্যর্পণ এবং ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের বাংলাদেশে ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ঢাকা।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতের কাছে আবারও অনুরোধ জানানো হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, বাংলাদেশের অনুরোধটি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করছে এবং প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান দুই অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকেও বাংলাদেশে ফেরত চাওয়া হচ্ছে। গত মার্চে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স বনগাঁ সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে। ভারতীয় পুলিশের দাবি, হাদি হত্যার পর তারা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছিলেন।
এরপর ভারতের আদালতে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে তাদের প্রত্যর্পণ নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশের আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে। রায় কার্যকরের জন্য তাকে দেশে ফেরাতে ভারত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ।
ভারতের বক্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধটি আইনগত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার আলোকে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ফলে এখন দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়াই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে।



