জাতীয়

নিকৃষ্ট শাসন চাপাতে শেখ হাসিনা তাঁর বাবাকে যথেচ্ছ ব্যবহার করেছেন: আসিফ নজরুল

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘দ্বিতীয় মৃত্যু’ ঘটে শেখ হাসিনার আমলে। শনিবার নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া পোস্টে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
পোস্টের শুরুতে আসিফ নজরুল বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানোর বহু কারণ আছে। আমি আগেও বলতাম, এখনো বিশ্বাস করি, উনার জন্ম না হলে অন্তত ১৯৭১ সালে আমাদের দেশ স্বাধীন হতো না। ১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলনে উনার অবদান অনস্বীকার্য ও অতুলনীয়। তিনি আমাদের স্বাধীনতার স্থপতি। এই দীর্ঘ  সময়ে গণতন্ত্র, মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং রাজনৈতিক ভিন্নমতের প্রতি উনার সুস্পষ্ট কমিটমেন্ট ছিল। এর প্রতিফলন এমনকি ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর পর্যন্ত গণপরিষদের বিতর্কের দলিলেও পাওয়া যায়।’
বঙ্গবন্ধু দেশ পরিচালনায় দক্ষ ছিলেন না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘উনি দেশ পরিচালনায় দক্ষ ছিলেন না। ১৯৭১-পরবর্তী বাংলাদেশ পরিচালনা করাও নানা কারণে অত্যন্ত দুরূহ ছিল। কিন্তু এর কোনোটিই ১৯৭২ সাল থেকে তাঁর ক্রমে ক্রমে আরও অত্যাচারী ও স্বৈরাচারী শাসকে পরিণত হওয়াকে জাস্টিফাই করে না। তাঁর শাসনামলের দুর্ভিক্ষ, নির্বিচার হত্যা এবং একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার বাস্তবতাকেও কোনো কিছু দিয়ে আড়াল করা যায় না।’
আসিফ নজরুল আরও বলেন, ‘উনার কয়েক বছরের দুঃশাসনের স্মৃতি মনে রেখেও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর জীবনব্যাপী অবদানের জন্য বহু মানুষ তাঁকে ভালোবাসতেন ও শ্রদ্ধা করতেন। আমি তাদের একজন। আমার মতো মানুষের জন্য এই ভালোবাসার প্রকাশকে কঠিন করে তোলে শেখ হাসিনার শাসনকাল। তার শাসন ছিল আইডেনটিটি-বেসড ফ্যাসিজমের একটি নিকৃষ্ট উদাহরণ। নিজের নিষ্ঠুর ও নিকৃষ্ট শাসনকে চাপিয়ে দেওয়ার জন্য তিনি তাঁর বাবাকে যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করেছেন। এটাই বঙ্গবন্ধুকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতিপক্ষ করে তুলেছিল। বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় মৃত্যু ঘটে শেখ হাসিনার আমলে, অনেকটা তারই হাতে।’
সবশেষে আসিফ নজরুল বলেন, ‘আজ বঙ্গবন্ধুর প্রথম মৃত্যুর বার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের এই দিনে এক নির্মম  হত্যাকাণ্ডে প্রায় গোটা পরিবারসহ প্রাণ হারান তিনি। বঙ্গবন্ধুর জন্য ভালোবাসা। দোয়া।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button