

হেলাল আহমদ জৈন্তাপুর প্রতিনিধি:
সিলেট সীমান্ত এলাকায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত কয়েকটি অভিযানে প্রায় ২ কোটি টাকার চোরাচালানী মালামাল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি। অভিযানে ভারতীয় প্রসাধনী সামগ্রী, বিভিন্ন খাদ্যপণ্য ও গবাদিপশুর পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে পাচারের চেষ্টাকালে কিছু পণ্য উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
বিজিবি জানায়, রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ বাংলাবাজার, প্রতাপপুর, বিছনাকান্দি ও সংগ্রাম বিওপি এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে ভারতীয় নিভিয়া সফট ক্রিম, পন্ডস ব্রাইট বিউটি ফেসওয়াশ, ক্লোভ জি ক্রিম, অলিভ অয়েল, সাবান ও সানগ্লাস জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে গরু, শুটকি, আঙ্গুর, আনার, কমলা, জিরা, পেঁয়াজ, এনার্জি ড্রিংক, চা পাতা, চকলেট ও সুপারিও উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে পাচারকালে বাংলাদেশি শিং মাছ ও সুপারি আটক করা হয়।
বিজিবি আরও জানায়, জব্দকৃত মালামালের সিজার মূল্য ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এ বিষয়ে সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ নাজমুল হক বলেন, সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, চোরাচালান এবং মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা সর্বাত্মকভাবে চলমান রয়েছে। সীমান্ত শুধু রেখা নয়, এটি মানুষের নিরাপত্তা ও দেশের অর্থনীতির প্রথম ঢাল। বিজিবির প্রতিটি সদস্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিনরাত দায়িত্ব পালন করছে, কারণ চোরাচালান রোধ মানে কেবল অবৈধ পণ্য ঠেকানো নয়, রাষ্ট্রের স্বার্থ, বাজারের ন্যায্যতা এবং সাধারণ মানুষের আস্থা রক্ষা করা। আমরা সীমান্তে কঠোর নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা ও নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখছি, ভবিষ্যতেও এ দায়িত্ব আরও দৃঢ়ভাবে পালন করব।
বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত মালামালের বিষয়ে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সীমান্তে ধারাবাহিক নজরদারি ও তৎপরতা জোরদার থাকলে চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হবে।
শেষ পর্যন্ত, সীমান্তে বিজিবির এই সতর্ক প্রহরা শুধু পণ্য জব্দের খবর নয়, এটি দেশের আইনশৃঙ্খলা, অর্থনীতি ও মানুষের নিরাপত্তা রক্ষার এক নির্ভরতার নাম, যা প্রতিদিন নতুন করে ভরসা জাগায়।



