

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের প্রকাশ্য সমর্থন কেন গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়—সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে সরকারের প্রেস উইং।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, অন্তর্বর্তী সরকারের ম্যান্ডেট এবং আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক নজির বিবেচনায় নিলে এ সমর্থনকে নিরপেক্ষতার লঙ্ঘন বলা যায় না।
প্রেস উইং জানায়, অন্তর্বর্তী সরকার কেবল নির্বাচন তত্ত্বাবধানের জন্য নয়; বরং দীর্ঘদিনের শাসনব্যর্থতা ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের ম্যান্ডেট নিয়েই গঠিত। সে কারণে সংস্কারসংক্রান্ত গণভোটে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করা দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।
পোস্টে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সরকারপ্রধানদের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া অস্বাভাবিক নয়। যুক্তরাজ্য, স্কটল্যান্ড, তুরস্ক, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশের গণভোটের উদাহরণ তুলে ধরে বলা হয়, এসব ক্ষেত্রেও সরকারপ্রধানদের সক্রিয় ভূমিকা গণতান্ত্রিক রীতির অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
প্রেস উইংয়ের মতে, গণভোটের বৈধতা নির্ভর করে ভোটারদের স্বাধীন সিদ্ধান্তের ওপর, সরকারের অবস্থান ঘোষণার ওপর নয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো রাজনৈতিক বা নির্বাচনী স্বার্থ না থাকায় প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কাও সীমিত।
পোস্টের উপসংহারে বলা হয়, ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টার অবস্থান কোনো নীতিগত লঙ্ঘন নয়; বরং সংস্কার বাস্তবায়নে দায়িত্বশীল নেতৃত্বের প্রকাশ। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জনগণের হাতেই থাকবে—এটাই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি।



