আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক আইনকে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র : জাতিসংঘ মহাসচিব

আন্তর্জাতিক আইন ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্র ক্রমেই ক্ষমতার রাজনীতির পথে হাঁটছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারণে এখন এমন একটি মানসিকতা কাজ করছে, যেখানে আন্তর্জাতিক আইন নয়; বরং মার্কিন ক্ষমতা ও প্রভাবকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি স্পষ্ট বিশ্বাস তৈরি হয়েছে যে বহুপাক্ষিক সমাধান এখন আর কার্যকর নয়। মার্কিন ক্ষমতা ও প্রভাব প্রয়োগই এখন তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং কখনো কখনো সেই প্রয়োগ আন্তর্জাতিক আইনের মানদণ্ডকে পাশ কাটিয়েই করা হচ্ছে।”

সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকির প্রেক্ষাপটে ইউরোপজুড়ে অস্থিরতা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতেই গুতেরেস এই মন্তব্য করলেন। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার সময় যে নীতিগুলো নির্ধারণ করা হয়েছিল, সেগুলো এখন হুমকির মুখে। বিশেষ করে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সমতার নীতিটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতেও জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে তিনি সংস্থাটির কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছিলেন। সে সময় ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি একাই ৭টি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন, যেখানে জাতিসংঘ কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি।

ট্রাম্পের এমন সমালোচনার প্রেক্ষিতে গুতেরেস স্বীকার করেন, আন্তর্জাতিক আইন মানতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে বাধ্য করাতে জাতিসংঘ কার্যত দুর্বল। তিনি বলেন, সংস্থাটির কোনো বলপ্রয়োগের ক্ষমতা নেই এবং সেই ক্ষমতা মূলত বড় শক্তিগুলোর হাতেই কেন্দ্রীভূত। তবে প্রশ্ন হলো, সেই ক্ষমতা কি টেকসই ও ন্যায়সঙ্গত সমাধানের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে, নাকি কেবল স্বল্পমেয়াদি স্বার্থ রক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকছে।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামো নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন গুতেরেস। তিনি বলেন, “বর্তমান নিরাপত্তা পরিষদ আর বিশ্ব বাস্তবতাকে প্রতিনিধিত্ব করে না এবং ভেটো ক্ষমতা প্রায়ই সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নিজস্ব স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ারে পরিণত হচ্ছে।” রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের ভেটোর কারণে ইউক্রেন ও গাজা যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ব্যাহত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button