

চট্টগ্রাম আদালতে এক আসামির মাথার ওপর পুলিশের ছাতা ধরে হাজির করার ঘটনা নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। আদালতে আসা সেবা প্রত্যাশীরা বলছেন, চট্টগ্রাম আদালতে এই প্রথম কোনো আসামিকে এমনভাবে ছাতা দিয়ে আড়াল করে হাজির করা হলো। আদালতের দীর্ঘ পথচলায় আগে এমন নজির দেখা যায়নি।
আদালতসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে নিয়মিতভাবেই আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর মামলার আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। এসব ক্ষেত্রে প্রিজনভ্যান থেকে নামানোর সময় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ডান্ডাবেড়িও ব্যবহার করা হয়। তবে আসামির মাথার ওপর বিশেষ ছাতা ধরে আদালতে নেওয়ার ঘটনা এই প্রথম।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে আলোচিত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও ইসকনের সাবেক সংগঠক চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ২৩ জন আসামিকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় কড়া নিরাপত্তার মধ্যে প্রিজনভ্যান থেকে চিন্ময় কৃষ্ণকে নামানো হয়। তিনি হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিহিত ছিলেন। পাশাপাশি একজন পুলিশ সদস্য তার মাথার ওপর একটি বিশেষ ছাতা ধরে রাখেন, যার ফলে তার চেহারা দেখা যাচ্ছিল না। এ কারণে গণমাধ্যমকর্মীদের ছবি ও ভিডিও ধারণ করতেও কিছুটা অসুবিধা হয়।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, প্রিজনভ্যান থেকে নামানোর পর আদালত চত্বরে প্রবেশ পর্যন্ত চিন্ময় কৃষ্ণের মাথার ওপর ছাতাটি রাখা হয়। পরে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল (জেলা ও দায়রা জজ) মো. জাহিদুল হকের আদালতে প্রবেশের সময় ছাতাটি বন্ধ করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, আসামির নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই ছাতা ব্যবহার করা হয়েছে। আদালত প্রাঙ্গণে কখনো কখনো আসামিকে লক্ষ্য করে ডিম বা পানির বোতল নিক্ষেপের মতো ঘটনা ঘটে। সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য মীর শফিকুল ইসলাম বিজন বলেন, আলিফ হত্যা মামলার আসামিদের আদালতে হাজির করার সময় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সকাল থেকেই আদালতের প্রবেশমুখে তল্লাশিচৌকি বসানো হয় এবং নাশকতা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক ছিল। আলোচিত আসামিদের ক্ষেত্রে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট ব্যবহারের বিধান রয়েছে। চিন্ময় কৃষ্ণের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা হিসেবে ছাতা ব্যবহার করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় দায়ের হওয়া একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চিন্ময় কৃষ্ণকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরদিন ২৬ নভেম্বর তাকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।



